দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা পুরসভায় (KMC) নথি গায়েব এবং ফাইল পাচারের অভিযোগ সামনে আসতেই পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনের নিরাপত্তা একধাক্কায় বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হল। এখন থেকে পুরভবনের ভিতর থেকে কোনও ফাইল বা গুরুত্বপূর্ণ নথি বাইরে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে জারি করা হল কঠোর বিধিনিষেধ (Kolkata Municipal Corporation Security)।
উপযুক্ত অনুমতি ছাড়া একটি ফাইলও দফতরের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি কাউন্সিলরদের একাংশের তোলা গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সেন্ট্রাল বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর এই নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুরসভার নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে,
এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে কয়েক দিন আগের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছিলেন, পুরভবনের একাধিক জায়গায় বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রচুর ফাইল ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনি পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে স্বচক্ষে গোটা পুরভবন পরিদর্শন করেন।
অভিযোগ, পরিদর্শনের সময় সত্যিই বেশ কিছু জায়গায় বস্তায় ভরা নথিপত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ফাইলগুলি কোন বিভাগের, কেন সেগুলিকে বস্তায় পোরা হয়েছে এবং কোথায় পাঠানোর পরিকল্পনা চলছিল— তা নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে কড়া প্রশ্ন তোলেন ওই কাউন্সিলর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি বিধায়ক তথা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সজল ঘোষ এবং প্রবীণ কাউন্সিলর মিনাদেবী পুরোহিত সরাসরি আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের দিকে। তাঁদের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের আমলে যে বিপুল দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রমাণ লোপাট করতেই এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও ফাইল সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। অবশ্য এই অভিযোগের সপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও অকাট্য বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি।
বস্তাবন্দি ফাইল উদ্ধারের পরেই পুরসচিব কিশোরকুমার বিশ্বাস আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুর-কমিশনারের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করবেন। পুরসভা সূত্রের দাবি, সেই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরই তড়িঘড়ি নিরাপত্তা জোরদার করার এই নয়া ফতোয়া জারি করা হয়েছে। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পুর প্রশাসনের কোনও শীর্ষকর্তা বা আধিকারিক এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ খোলেননি।

