Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়াই উদ্দেশ্য ছিল! বারুইপুরকাণ্ডে দাবি ধৃতের, ধর্ষণ-খুনের তদন্তে ধোঁয়াশায় পুলিশ

অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়াই উদ্দেশ্য ছিল! বারুইপুরকাণ্ডে দাবি ধৃতের, ধর্ষণ-খুনের তদন্তে ধোঁয়াশায় পুলিশ

THE WALL 2 weeks ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Minor Rape Murder case) ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। এক স্কুলছাত্রীর এমন নৃশংস পরিণতিতে ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মূল অভিযুক্ত প্রভাস সর্দার। আর তাঁকে জেরা করতেই বেরিয়ে এল এক হাড়হিম করা তথ্য (Baruipur Case)।

ধৃতের দাবি, খুনের পেছনে ছিল অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ছক! তবে এই দাবি কতটা সত্যি, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

বারুইপুর থানায় পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে ধৃত ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই গোটা অপরাধের প্ল্যানিং করেছিল মোট চারজন। ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা এবং তার বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়াই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এখানেই খটকা লাগছে তদন্তকারীদের। নিহত নাবালিকার বাবা সাফ জানিয়েছেন, তাঁর কাছে মুক্তিপণ চেয়ে কোনও ফোনই আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, যদি উদ্দেশ্য মুক্তিপণ আদায় করাই হবে, তবে কেন ফোন করার আগেই নাবালিকাকে খুন করা হল? এই রহস্যের জট এখনও খোলেনি।

জেরায় খুনের সেই নৃশংস বিবরণও দিয়েছেন প্রভাস। তিনি জানান, আনন্দ নামে এক যুবক ওই নাবালিকার গলায় পা দিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। তবে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে ধৃতের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁকে ভয় দেখিয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজে এই খুনে জড়িত ছিলেন না। গোটা ঘটনাটি দেখে ফেলায় বাকিরা তাকেও খুন করার হুমকি দিয়েছিল। নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে অবশ্য প্রভাস জানিয়েছে, "আমি তা দেখিনি।"

মেয়ের মৃত্যুর পিছনে মুক্তিপণের গল্প শুনে আকাশ থেকে পড়েছেন নিহতের বাবা। পেশায় ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তি জানান, "কেন আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হল, জানি না। আমার এমন কোনও শত্রুও নেই।" তিনি জানান, এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ দেখেই তাঁরা প্রথমে প্রভাসকে চিহ্নিত করেন এবং তাকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মেয়ের খোঁজ মেলে। প্রভাস ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হল আনন্দ, প্রবীর, দিবাকর ও রাজা। এরা সকলেই স্থানীয় যুবক।

ইতিমধ্যেই রাতেই নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত শেষ করে তা পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ। প্রভাসের বয়ানে উঠে আসা আনন্দ-সহ বাকি চারজন পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে বারুইপুর থানার পুলিশ। তাদের গ্রেফতার করতে পারলেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসল উদ্দেশ্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রবিবারই অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট গঠন করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। গতকাল দুপুরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে সরাসরি কথা বলেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাস দেন।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেল থেকে। বারুইপুরের বাসিন্দা মাত্র ১১ বছর বয়সের এক নাবালিকা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের লোকেরা চারিদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার হদিস পাননি। এরপর রবিবার ভোরে বাড়ির ঠিক পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার নিথর দেহ। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই খবর জানাজানি হতেই রবিবার সকাল থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা বারুইপুর।

জনরোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ এক অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দেয় বলে অভিযোগ, যার জেরে ওই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই মুহূর্তে গোটা এলাকায় পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall