প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা: ভাগাড়-কাণ্ডের স্মৃতি উসকে ফের বাদুড়িয়ায় নামী রেস্তোরাঁয় মিলল পচা মাংস। খাদ্য দফতর, পুরসভা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কিলো কিলো পচা মাংস উদ্ধার হয় (West Bengal News)।
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা বাদুড়িয়া বাজার এলাকার ঘটনাটি ঘটে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে ওই হোটেলটিতে হানা দিয়েছিল পুলিশ।
অভিযোগ, হোটেলের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয় বেশ কয়েক কিলো মুরগি ও ছাগলের মাংস। সমস্ত মাংসই পচা। খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা মাংসগুলি বাজেয়াপ্ত করেন। পাশাপাশি নোটিস দেওয়া হয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে।
খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর এমন কিছুই তাঁরা করতে দেবেন না। প্রয়োজনে রেস্তোরাঁ মালিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৮ সালে রাজ্যের বিভিন্ন বাজার, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় হানা দিয়ে ভাগাড়ের পচা মাংস উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই বছরের এপ্রিল-মে মাসে হোটেল-রেস্তোরাঁয় পচা মাংস সরবরাহের চাঞ্চল্যকর চক্রের খবর প্রকাশ্যে আসে। এই চক্রের মূল পাণ্ডা সন্দেহে সোনারপুরের মাছ ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ ঘড়াই ওরফে বিশুকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ভাগাড়ের আবর্জনা থেকে মৃত পশুর দেহ তুলে পচা অস্বাস্থ্যকর মাংস রাসায়নিকে ভিজিয়ে তাজা দেখিয়ে কলকাতা ও আশেপাশের বিভিন্ন নামী হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করা হতো। বিশুকে জেরা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বন্ধ করে দেওয়া হয় একাধিক রেস্তোরাঁ। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় আবার পচা মাংস উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরনো ভাগাড় কাণ্ডের স্মৃতি ফিরল। তবে খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানান, গোটা রাজ্যেই হোটেল রেস্তোরাঁয় হানা দেওয়া হচ্ছে। দোষীরা সবাই গ্রেফতার হবে।

