দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘ বা চিতা নয়, একটি ছোট্ট কাঠবিড়ালির দাপটে কার্যত থরহরিকম্প অবস্থা রাজস্থানের উদয়পুরের মোহনলাল সুখাদিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (MLSU)। গত দেড় মাসে এই 'আক্রমণাত্মক' কাঠবিড়ালির কামড়ে জখম হয়েছেন অন্তত ২০ জন ছাত্রছাত্রী এবং কর্মী। বাদ যাননি কলেজের ডিন-ও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগে যাওয়ার প্রধান রাস্তাটি ব্যবহার করতেও এখন ভয় পাচ্ছেন সকলে।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাঠবিড়ালি ঘুরে বেড়ানো নতুন কিছু নয়, কিন্তু এই বিশেষ প্রাণীটির আচরণ সবাইকে অবাক করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই গাছ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পথচারীদের কামড়ে দিচ্ছে সে এবং পরক্ষণেই দ্রুত গাছে উঠে লুকিয়ে পড়ছে।
প্রাণী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এনিয়ে কথা বলেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানিয়েছেন, সাইকোলজি বিভাগের কাছেই হয়তো কাঠবিড়ালিটি তার বাসা তৈরি করেছে। নিজের এলাকা বা সীমানা রক্ষা করতেই সে মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে।
পশুসম্পদ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ডক্টর শৈলেন্দ্র কুমার শর্মার মতে, অনেক সময় আংশিক অন্ধত্ব বা বিশেষ কোনও রঙের প্রতি বিরক্তি থেকেও প্রাণীরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। আবার কোনও কারণে সে নিজেকে অসুরক্ষিত বোধ করলেও এমনটা করতে পারে। এক্ষেত্রে ঠিক কোনটা হচ্ছে তা এভাবে বলা সম্ভব নয়।
উদ্ধার করতে কালঘাম ছুটছে রেসকিউ টিমের
এই খুদে 'সন্ত্রাসবাদীকে' ধরতে ইতিমধ্যেই দু'বার 'অ্যানিমাল এইড' রেসকিউ টিম তলব করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় খাঁচাও পাতা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত ধূর্ত এই প্রাণী বারবার ফাঁদ এড়িয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কলেজের অ্যাসোসিয়েট ডিন নবীন নাভানা জানিয়েছেন, কাঠবিড়ালিটিকে দেখা গেলেই যেন কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়।
সতর্কতা ও চিকিৎসা
ডক্টর শর্মা আশ্বস্ত করেছেন, কাঠবিড়ালির কামড়ে জলাতঙ্ক বা ব়্যাবিসের ভয় থাকে না। তবে সতর্কতা হিসেবে আক্রান্তদের টিটেনাস ইনজেকশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরই এই খুদে প্রাণীর ভয়ে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

