দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আসাদকে এনকাউন্টারে খতম করল (Uttar Pradesh Encounter) পুলিশ। বকরি ইদের দিন ঘটে যাওয়া ওই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত। শনিবার গভীর রাতে পুলিশের সাথে এক রুদ্ধশ্বাস গুলির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
যোগী আদিত্যনাথের (CM Yogi Adityanath) পুলিশের এই পদক্ষেপের পর এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও থমথমে ভাব বজায় রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
গত বৃহস্পতিবার, বকরি ইদের (Bakrid 2026) দিন গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় সূর্যপ্রতাপ চৌহান নামে ১৭ বছর বয়সি একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ ওঠে আসাদ ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম অবস্থায় সূর্যপ্রতাপকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঈদের দিনে এই মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাস্তায় নেমে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং মূল অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎপর হয় পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের জালে ৩ সহযোগী, আসাদের মাথায় পুরস্কার
তদন্তে নেমে গাজিয়াবাদ পুলিশ এই ঘটনায় মোট পাঁচজন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করে। ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিল। তাকে ধরার জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয় এবং আসাদের মাথার দাম ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়।
গভীর রাতে গুলির লড়াই ও এনকাউন্টার
শনিবার রাতে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে, আসাদ এলাকা ছেড়ে পালানোর ছক কষছে। খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ বিভিন্ন মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে চিরুনিতল্লাশি শুরু করে। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলের পিছনে আসাদকে বসে থাকতে দেখে পুলিশ তাকে থামানোর চেষ্টা করে।
নিজেকে বাঁচাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে আসাদ। আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায় পুলিশ বাহিনীও। দু'পক্ষের এই গুলির লড়াইয়ে এক পুলিশকর্মী আহত হন। খানিকক্ষণ সংঘর্ষ চলার পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনকাউন্টারের সুযোগে মোটরসাইকেল চালক, অর্থাৎ আসাদের অন্য এক সহযোগী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে আবারও পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানে পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এদিকে মূল হত্যাকারীর এই পরিণতিতে সূর্যপ্রতাপের মা জানিয়েছেন, আসাদের যে দশা হয়েছে, বাকি অভিযুক্তদেরও যেন ঠিক এইভাবেই কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়।

