দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে নতুন করে শুরু হতে চলেছে বহুপ্রতীক্ষিত জনগণনা বা সেন্সাস (Cencus)। শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, আগামী ১ অগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) নতুন করে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই কাজ সম্পন্ন করা হতে চলেছে, যা চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। একই সঙ্গে পূর্বতন সরকারকে তীব্র নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে, তাই এই জনগণনা অত্যন্ত জরুরি। তবে এতে এ দেশের বা রাজ্যের বৈধ নাগরিকদের ভয়ের কোনও কারণ নেই।
জনগণনা নিয়ে তৈরি হওয়া নানাবিধ আশঙ্কা ও প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এটি একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। এই প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেন, 'বাংলায় শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। এর পর তৎকালীন মুখ্যসচিবের অসম্মতি এবং আগের সরকারের গোঁয়ার্তুমির কারণেই রাজ্যে আর নতুন করে সেন্সাস করা যায়নি। যার ফলে বাকি রাজ্যগুলির তুলনায় আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি।'
অগস্ট মাস থেকেই যে রাজ্যে সেন্সাসের কাজ শুরু হতে পারে, তার একটা ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। এ দিন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ অগস্ট থেকে দেশ ও রাজ্যে একযোগে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য থাকছে 'সেলফ এনুমারেশন' বা নিজে নিজেই তথ্য নথিভুক্ত করার বিশেষ সুযোগ। গোটা প্রক্রিয়াটি আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চলবে।
জনগণনা নিয়ে আমজনতার মনে যাতে কোনও রকম বিভ্রান্তি বা সমস্যার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর এবং ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে। দেশব্যাপী যে টোল-ফ্রি নম্বরটি সচল থাকবে, সেটি হল— ১৮৫৫। এর পাশাপাশি একটি ল্যান্ডলাইন নম্বরও চালু করা হচ্ছে, নম্বরটি হল— ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩। যে কোনও তথ্যের জন্য নাগরিকেরা সরাসরি নজর রাখতে পারবেন সরকারি ওয়েবসাইটে: www.westbengal.census.gov.in।
এ দিন সরাসরি অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, 'জনগণনার ভয়ে প্রচুর বাংলাদেশী ইতিপূর্বেই এ দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে, তা আপনারা স্পষ্ট দেখতেই পাচ্ছেন। এই মুহূর্তে যাঁরা বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আটকে রয়েছেন, তাঁরা কেউই প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারবেন না।'
তবে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী ও বৈধ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাজনীতি কিংবা জাতপাতের দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব, যা বাংলার উন্নয়নের স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরি।

