দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাজ্যে (West Bengal) শুরু হতে চলেছে জনগণনা বা সেন্সাসের (Population Census) কাজ। আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্য জুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে শুক্রবার নবান্নে এক বৈঠকের পর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় চলবে এই কাজ। তবে এবারের জনগণনায় থাকছে একগুচ্ছ আধুনিক চমক। রাজ্যে এই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা অনলাইন পদ্ধতিতে মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
থাকছে 'সেলফ এনুমারেশন' বা নিজে তথ্য দেওয়ার সুযোগ
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে আমজনতার সুবিধার্থে এবার 'সেলফ এনুমারেশন' বা স্ব-গণনার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আগামী ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের যাবতীয় তথ্য সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটি হল www.westbengal.census.gov.in।
ভীতি দূর করতে হেল্পলাইন নম্বর
জনগণনা নিয়ে আমজনতার মনে যাতে কোনও রকম বিভ্রান্তি, সংশয় বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি না হয়, তার জন্য কড়া নজর রাখছে নবান্ন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং সব প্রশ্নের উত্তর দিতে একটি টোল-ফ্রি ও একটি ল্যান্ডলাইন নম্বর চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশব্যাপী চালু থাকা হেল্পলাইন নম্বর ১৮৫৫-এর পাশাপাশি বাংলার বাসিন্দারা ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩ নম্বরে ফোন করেও এই সংক্রান্ত যে কোনও সাহায্য বা তথ্য পেয়ে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বাংলার প্রতিটি নাগরিককে কোনও রকম দ্বিধাবোধ না করে এই প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন।
অনুপ্রবেশ ও পূর্বতন সরকারকে তীব্র নিশানা
এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে একদিকে যেমন আমজনতাকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিগত সরকারের ঢিলেমিকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আগের সরকারের গোঁয়ার্তুমি এবং গাফিলতির কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছি।'
বাংলায় শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। তারপর দীর্ঘ দেড় দশক কেটে গেলেও রাজ্যে আর কোনও সেন্সাস হয়নি। বর্তমান প্রেক্ষাপট টেনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, 'জনগণনা একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। এটা কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্কও নেই। মনে রাখতে হবে, অবাধ অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি মারাত্মক ভাবে বদলে গিয়েছে। তাই রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এই ডিজিটাল খতিয়ান অত্যন্ত জরুরি।'
আগস্ট মাস থেকে জনগণনা হতে পারে, এমন একটা ইঙ্গিত প্রশাসনিক মহলে আগেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। শুক্রবার নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন যে, আগামী সাত মাস প্রশাসনিক স্তরে বাংলায় সবথেকে বড় কর্মকাণ্ড হতে চলেছে এই ডিজিটাল সেন্সাস।

