দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকারের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজনীতি। সেই তদন্তে এগোল আরও এক পা। পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে-কে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করল খড়দহ থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জায়গায় তাঁর খোঁজ চালাচ্ছিলেন তাঁরা।
অবশেষে বেঙ্গালুরুতে সন্ধান মেলে। বৃহস্পতিবার তাঁকে বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে তোলা হবে। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে (Transit Remand) পশ্চিমবঙ্গে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানো হবে তাঁকে।
আরজি কর-কাণ্ডের পর তরুণী চিকিৎসকের দেহ পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে ঘিরেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। নিহত চিকিৎসকের পরিবারের অভিযোগ ছিল, দেহের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে (Discharge Certificate) জোর করে সই করিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সোমনাথ দে-র ভূমিকা ছিল। পরিবারের তরফে সোমনাথের পাশাপাশি পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।
এই মামলায় এর আগেই নির্মল ঘোষকে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সময়ে ওড়িশা এবং হায়দরাবাদের একাধিক জায়গায় সোমনাথের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েছিলেন। কিন্তু বারবার অবস্থান বদল করায় তাঁর নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত বেঙ্গালুরু থেকেই তাঁকে পাকড়াও করা হল।
আরজি কর থেকে পানিহাটি শ্মশান পর্যন্ত দেহ নিয়ে যাওয়ার পর্বে নির্মল ঘোষের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নিহত চিকিৎসকের বাবা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর মেয়ের দেহ দ্রুত সৎকারের জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন করে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতেই তদন্ত এগোয়।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে রাজনৈতিক মহলেও। বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি দেহ সৎকারের পর্বে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিও জোরালো হয়েছে।
সোমনাথ দে-র গ্রেফতারের পর এবার তদন্তের পরবর্তী ধাপে পুলিশ কী তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই নজর। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারেই চূড়ান্ত হবে।

