দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে সূর্যপুর এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির উদ্যোগ নিল জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যেই ফাঁড়ি গড়ার জন্য উপযুক্ত জমির খোঁজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, এলাকায় স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতি বাড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া।
মঙ্গলবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পরিবার এলাকার মধ্যে একটি পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির দাবি জানিয়েছে। সেই প্রস্তাব রাজ্যের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে ভাড়াবাড়ি নিয়েও আউটপোস্ট চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সূর্যপুরে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা পুলিশ।
বর্তমানে সূর্যপুরে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। তবে সেটি মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। কোনও অভিযোগ দায়ের করতে হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বারুইপুর থানায় যেতে হয়। নতুন ফাঁড়ি চালু হলে অভিযোগ গ্রহণ, প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় পুলিশি পরিষেবার অধিকাংশই স্থানীয় স্তরেই পাওয়া যাবে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসনের আশা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ফাঁড়িতে বর্তমান ক্যাম্পের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুলিশকর্মী এবং আধিকারিক মোতায়েন করা হবে। নিয়মিত টহল, অপরাধ দমন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করাও সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরেই সূর্যপুর ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির। সেই দাবি বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে জেলা পুলিশ।
গত শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় এক নাবালিকার দেহ। তদন্তে নেমে প্রথমে গ্রেফতার করা হয় প্রভাস মণ্ডলকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধরা পড়ে আরও তিন অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় প্রভাস এক আধিকারিকের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বলে জানায় পুলিশ এবং গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে প্রভাসের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছে। পুলিশের উপর হামলা, রেল ও সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং গণপিটুনির অভিযোগে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বুধবার ১৮ জন এবং বৃহস্পতিবার আরও ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নিয়ে গোলমালের ঘটনায় মোট ৪০ জন ধরা পড়ল। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় স্থায়ী পুলিশি পরিকাঠামো গড়ে তুলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি রুখতেই প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগ।

