দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার গিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল (Kalighat TMC), এবার বারুইপুরের নির্যাতিতার (Baruipur Minor Case) পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার সকালেই সেখানে পৌঁছল ঋতব্রত তৃণমূল (Ritabrata Trinamool Congress)। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh), কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar) এবং সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ছেড়ে 'বিদ্রোহী' শিবিরে যোগ দেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।
বারুইপুরে (Baruipur) পৌঁছলে প্রথমে ঋতব্রতদের পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে অবশ্য অনুমতি মেলে, তাঁরা যায় নির্যাতিতার বাড়িতে। তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। কিশোরীর বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁদের। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা যাতে আর না হয়, সেই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে হবে।"
এদিন তৃণমূল সরকারের আমলের 'অপরাজিতা বিল' দ্রুত কার্যকর করাও দাবি জানান কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা রুখতে কড়া আইন আনা হবে। সেইমতো গতবছর সেপ্টেম্বরে পাশ হয়ে যায় 'অপরাজিতা বিল ২০২৪'। তবে রাজ্যপালের অনুমোদন না থাকায় এখনও তা কার্যকর করা যায়নি।
উল্লেখ্য, রবিবার বারুইপুর যাওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তাঁর কালীঘাটের বাড়ি পুলিশ বাহিনী দিয়ে ঘিরে তাঁকে 'হাউস অ্যারেস্ট' করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন ফেসবুক লাইভে। সোমবার কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, এলাকার বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। আর এবার গেল ঋতব্রত তৃণমূল।
মঙ্গলবার সকালেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা নির্যাতিতার বাড়িতে যান। দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তাঁরা।
আজই ঘটনাস্থলে যাবেন মুখ্যমন্ত্রীও। সোমবারই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন একথা। কথা বলবেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও। এছাড়া, এখনও পর্যন্ত তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এসপির সঙ্গে দেখা করে সেই খবরও নেবেন তিনি।
শনিবার থেকে নিখোঁজ নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয় রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে। ধর্ষণ করে খুন, এই অভিযোগে দেহ আটকে বিক্ষোভ চলে সেদিন সারাদিন। পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এদিকে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এক অভিযুক্তের। মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত ৬ সদস্যের সিট তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

