দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরুর এক নামী আইটি সংস্থার ক্যাম্পাসে ডে-কেয়ার পরিচারিকাদের হাতে শিশুদের ওপর চরম ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন শুরু হতেই বিষয়টি নিয়ে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। শুক্রবার কমিশনের তরফে এই নারকীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে কর্নাটক সরকার এবং রাজ্যের পুলিশ প্রধানকে (DGP) কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে (Bengaluru daycare abuse NHRC notice)।
এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (Suo motu) পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যের প্রশাসনের কাছ থেকেই আগামী দু'সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই অভিযোগগুলো (Capgemini Bengaluru creche abuse) যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা মানবধিকার লঙ্ঘনের এক অত্যন্ত গুরুতর ও চরম উদ্বেগজনক নজির।
বেঙ্গালুরুর ডে-কেয়ারে ঠিক কী ঘটেছিল?
তথ্যপ্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর খ্যাতনামা আইটি জায়ান্ট 'ক্যাপজেমিনি' (Capgemini)-র ক্যাম্পাস চত্বরেই কর্মরত পেশাদারদের সুবিধার্থে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার বা ক্রেশ চালানো হতো। অফিসে ডিউটি করার সময় কর্মীরা তাঁদের সন্তানদের নিশ্চিন্তে রাখার জন্যই এই ক্রেশ ব্যবহার করতেন। কিন্তু সুরক্ষার সেই আস্তানাতেই চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে উঠেছিল শিশুরা।
মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, একটি চাইল্ড হেল্পলাইন নম্বরে কিছু ভিডিও আসার পরেই এই গোটা বিষয়টি প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে। গত ২ জুলাই ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, পরিচারিকারা শিশুদের কান্না থামাতে এবং তাদের 'ঠান্ডা' রাখতে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালাচ্ছে। অভিযোগ, কান্নাকাটি করলে শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে পুরে দেওয়া হত! কখনও বা তাদের বাথরুমে আটকে রাখা হত দীর্ঘক্ষণ। এমনকি শিশুরা যাতে ভয় পেয়ে কান্না থামিয়ে দেয়, তার জন্য টয়লেটের জেট স্প্রে দিয়ে সরাসরি তাদের মুখে জল ছেটানো হতো।
ভিডিওগুলো সামনে আসার পর তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রশাসনের তরফে আপদকালীন সতর্কতা হিসেবে আপাতত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সরাসরি কর্নাটকের মুখ্য সচিব এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশকে (DGP) নোটিস পাঠিয়ে গোটা ঘটনার কৈফিয়ত চেয়েছে।
অন্য একটি ঘটনায়, মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বান্দা সিভিল হাসপাতালের আরও একটি অমানবিক ঘটনা সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র দেড় বছর বয়সি এক শিশুকে ঠান্ডা লাগা এবং চোখ লাল হওয়ার সমস্যার কারণে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তার অভিভাবকরা। কিন্তু অভিযোগ, সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চোখের ড্রপের বদলে ভুলবশত শিশুর চোখে নাকের ড্রপ (Nasal drops) দিয়ে দেন।
ভুল ওষুধ ব্যবহারের জেরে কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির চোখে মারাত্মক ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নেয় যে, শেষ পর্যন্ত ওই শিশুটি তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্য সচিবের কাছে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনএইচআরসি (NHRC)।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই দুটি ব্যবস্থাপনাই অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেভাবে দুই রাজ্যেই শিশুদের নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হয়েছে, তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। প্রশাসনের ভূমিকা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা দেখার পরেই কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

