দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃসঙ্গতা কাটাতে অনলাইনে এক সমকামী ডেটিং অ্যাপে ঘোরাঘুরি করছিলেন ২৭ বছরের যুবকটি। কিন্তু দেখা করার অছিলায় ডেকে ওই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে তাঁর সর্বস্ব লুট করার অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে (Bengaluru Engineer trapped Dating App Fraud)। বেঙ্গালুরুর চিক্কাজালা এলাকার এই ঘটনা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের (Gay Dating App Fraud)।
আলাপ থেকে ফাঁদ
পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওই যুবক গত তিন বছর ধরে 'গ্রাইন্ডার' (Grindr) নামক একটি সমকামী ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করছিলেন (Grindr app robbery Bengaluru)। ইয়েলাহাঙ্কা থানায় দায়ের করা এফআইআর (FIR) অনুযায়ী, সম্প্রতি ওই অ্যাপে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। বেশ কয়েকদিন কথাবার্তা হওয়ার পর গত বুধবার সেই ব্যক্তি তাঁকে দেখা করার প্রস্তাব দেয়। বাগালাপুর রোডের কাছে পালানাহল্লি গেটে দেখা করার কথা ছিল তাঁদের। সেই মতো বাসে চড়ে সেখানে পৌঁছন ওই যুবক (Gay dating app safety India)।
নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে হামলা
অভিযোগ, নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছনো মাত্রই চারজন যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে। এরপর তাঁকে জয়মুনি লেআউটের কাছে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুষ্কৃতীরা প্রথমে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এমনকি তাঁর পরিবারের কাছে ওই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারের কথা ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়। এরপর তাঁকে ভেঙ্কটালার একটি জনশূন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে আততায়ীরা।
রক্তাক্ত অবস্থায় লুঠ করা হল পাসওয়ার্ড
আক্রমণের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, যুবকের মাথা, কবজি, পাঁজর, পেট এবং ঘাড় ছুরির আঘাতে মারাত্মক চোট লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় থাকাকালীনই তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। প্রাণের ভয়ে নিজের ইউপিআই (UPI) পাসওয়ার্ড দিতে বাধ্য হন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর এসবিআই (SBI) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দুষ্কৃতীরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে নেয়। এফআইআর-এ ১৬ হাজার টাকার কথা উল্লেখ থাকলেও পুলিশ পরে জানায়, ফোন-পে (PhonePe)-র মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গ্যাংটি।
গ্রেফতার ৪ অভিযুক্ত
রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওরকমে নিজের এক বন্ধুকে ফোন করে ডাকেন আক্রান্ত ইঞ্জিনিয়ার। বন্ধু এসে তাঁকে উদ্ধার করে বাগালাপুর মেইন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইয়েলাহাঙ্কা থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম দর্শন, সুনীল, চন্দন এবং তাদের আরেক সহযোগী। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
সম্প্রতি ভুয়ো ডেটিং অ্যাপ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় তোলপাড় হয়ে উঠেছিল কলকাতা। কসবা রাজডাঙা এলাকার হোটেল ঘর থেকে নগ্ন এবং পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয় আদর্শ লোসালকার দেহ। ঘটনার একদিন পরেই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়। দু'চোখ ধাঁধানো প্রোফাইল, লাস্যময়ী তরুণীদের ছবি, আর বন্ধুত্বের মিষ্টি টোপ এই তিন অস্ত্রেই তৈরি করা হতো নিখুঁত শিকারের ফাঁদ। আর ঘনিষ্ঠতার দড়ি ধরেই শুরু হত ব্ল্যাকমেলিং। কখনও এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া, কখনও জোর করে অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা হাতানো—সব কিছুই ছিল সুপরিকল্পিত। কিন্তু আদর্শের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। খুনের পর প্রকাশ্যে আসে ভুয়ো ডেটিং অ্যাপের ওই চক্র।

