দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতসকালে এল বড় খবর। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময়ের ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) পর্ব মিটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ-সহ (West Bengal) পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC)। প্রথাগত ভাবে গতকালই লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে ২৯৩ আসনের জয়ীদের তালিকা অর্থাৎ গেজেট দিয়ে এসেছেন সিইও মনোজ আগরওয়াল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজ্যের উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আজ, ৭ মে থেকেই এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে আন্ডার সেক্রেটারি প্রফুল্ল অবস্থির স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন থেকে যে নিয়ম চালু হয়েছিল, আজ থেকে তার কার্যকারিতা ফুরিয়ে গেল।
বাংলার জন্য থাকছে একটি বড় 'কিন্তু'
তবে কি গোটা বাংলা থেকেই বিধি উঠে গেল? এখানেই রয়েছে আসল মোড়। কমিশনের চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আচরণবিধি সার্বিকভাবে উঠলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৪-ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এখনই নিয়ম শিথিল হচ্ছে না। সেখানে নতুন করে ভোটগ্রহণের (Fresh Poll) নির্দেশ দিয়েছে কমিশন, তাই ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বিধি বহাল থাকবে।
তালিকায় রয়েছে আর কোন কোন রাজ্য?
বাংলার পাশাপাশি যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি থেকে বিধি তুলে নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুডুচেরি। এছাড়াও গুজরাট, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরার যেসব আসনে উপনির্বাচন ছিল, সেখানেও আচরণবিধি আর কার্যকর থাকছে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
আমজনতা ও সরকারের স্বস্তি
ভোটের বিধি উঠে যাওয়ার অর্থ হল, সরকার এখন থেকে নতুন কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বা উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণা করতে পারবে। প্রশাসনিক রদবদল বা বদলি সংক্রান্ত যে বাধা ছিল, তাও কেটে গেল । সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হল, প্রশাসনিক কাজে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এবার কাটবে।
কমিশনের এই চিঠি ইতিমধ্যেই ক্যাবিনেট সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের মুখ্য সচিব ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলতা বাদ দিলে আজ থেকেই রাজ্যে ফের পুরোদমে চালু হচ্ছে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।

