দ্য ওয়াল ব্যুরো: টোটালাইজার নামে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে অন্তত ১৪টি বুথের ভোট একত্রে গণনা সম্ভব। সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলায় আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় ভোট গণনায় টোটালাইজার ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে।
আইনজীবী উপাধ্যায় মামলায় বলেছেন, নির্বাচনের পর বহু এলাকায় সাধারণ ভোটারেরা বিজয়ী এবং পরাজিত উভয় শিবিরের আক্রমণের শিকার হন। গণনার বুধ ভিত্তিক ফলাফল থেকে বিজয়ী প্রার্থী জানতে পারেন কোন এলাকায় মানুষ তাঁকে কম দিয়েছে বা দেয়নি। অন্যদিকে, পরাজিত প্রার্থীও জানতে পারেন, কোন এলাকার ভোটারদের বিরোধীতার কারণে তিনি হেরেছেন।
এই সমস্যা থেকে ভোটারদের মুক্তি দিতে গণনায় টোটেলাইজার ব্যবহারের দাবি পেশ করেছেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ ওই আইনজীবী। নির্বাচন কমিশন এই দাবির বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছে।
তারা বলেছে, ২০১৬ সালে গঠিত মন্ত্রী গোষ্ঠী এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। কমিশনের আরও বক্তব্য, টোটালাইজার ব্যবহার করে একাধিক বুথের ভোট একত্রে গণনার সিদ্ধান্ত নিতে হলে ১৯৫০ এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে বড় ধরনের সংশোধন দরকার। আইন সংশোধনের দায়িত্ব সরকার ও সংসদের। কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচন সংক্রান্ত আইনে বুথভিত্তিক গণনার কথা বলা আছে।
কমিশনের এই বক্তব্যে অনেকেই মনে করছেন টোটেলাইজার ব্যবহার করে একাধিক বুথের গণনা একত্রে করার দাবিতে তারা সহমত নয়। কারণ আইন সংশোধনের যে যুক্তি তারা পেশ করেছে সেটা মোটেই বড় কোন সমস্যা নয়। আইন সংশোধন করেই দেশে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ চালু করা হয়েছিল। ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সেটাই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংস্কার। অনেকেই মনে করছেন একাধিক বুটের ফল একত্রে গণনা হলে ভোট পরবর্তী হিংসায় লাগাম দেওয়ার সহজ হবে।

