দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাজ্যে হাইভোল্টেজ ভোটগণনা (West bengal Assembly Election 2026)। তার ঠিক আগের দিন মালদহে চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে আসা বিচারকদের হেনস্থার ঘটনায় এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূলের একাধিক নেতা ও নির্বাচনী এজেন্টকে তলব করল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
সূত্রের খবর, রবিবার বেলা ১২টার মধ্যে কালিয়াচক থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল রহমানকে। আব্দুল রহমান বর্তমানে মালদহ জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ। শনিবার গভীর রাতে তাঁর কাছে নোটিস পৌঁছয় বলে জানা গিয়েছে।
তালিকায় রয়েছেন আরও এক দাপুটে নেতা। কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সরিউলকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে এনআইএ। এছাড়াও এলাকার বেশ কয়েকজন পরিচিত তৃণমূল নেতা-কর্মীকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
ঠিক কী ঘটেছিল মোথাবাড়িতে? গত মাসে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ খতিয়ে দেখতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা মালদহে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, মোথাবাড়িতে সেই বিচারকদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সাতজন বিচারককে গভীর রাত পর্যন্ত কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল, তাঁদের একাংশই এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয় নির্বাচন কমিশন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডি মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামসহ মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে এনআইএ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, সেদিনের সেই নজিরবিহীন বিক্ষোভের নেপথ্যে গভীর কোনও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। সেই জট খুলতেই তৃণমূল নেতাদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় এনআইএ।
গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বাংলায়। ৪ মে অর্থাৎ সোমবার ফলাফল ঘোষণা। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা আগে শাসকদলের প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের এজেন্ট ও স্থানীয় ব্লক সভাপতিকে এনআইএ তলব করায় রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে মালদহে।
তৃণমূলের শিবিরের দাবি, গণনার আগের দিন নেতাদের থানায় আটকে রেখে মনোবল ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার পালটা যুক্তি— আদালতের নির্দেশ মেনেই নিরপেক্ষ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এখন দেখার, গণনার আগের এই 'এনআইএ অ্যাকশন' কালিয়াচক তথা মালদহের ভোটযুদ্ধে কোনও প্রভাব ফেলে কি না।

