দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর এই প্রথম মাঠের রাজনীতিতে এবং প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ফিরছেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলীয় সূত্রে খবর, নির্বাচন-উত্তর অশান্তিতে 'আক্রান্ত' হওয়া ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে শনিবার থেকেই ময়দানে নামছেন তিনি।
শনিবার নিজের প্রথম দফার কর্মসূচিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ এবং কলকাতার বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায় যাবেন ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাংসদ। জানা গিয়েছে, সোনারপুর দক্ষিণে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ি যাবেন তিনি। এরপর বেলেঘাটায় গিয়ে আর এক 'আক্রান্ত' দলীয় কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের সঙ্গে দেখা করে তাঁর খোঁজখবর নেবেন।
ভোটের ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কার্যত ছন্নছাড়া রূপ ধারণ করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের নিচু তলার কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে লাগাতার অভিযোগ উঠছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের 'সেকেন্ড-ইন-কমান্ড' কেন রাস্তায় নেমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই চোরা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। প্রকাশ্যেই অভিষেকের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঘটনাচক্রে, শনিবার নিজের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রথম দিনেই কুণালের নির্বাচনী কেন্দ্র বেলেঘাটায় যাচ্ছেন অভিষেক, যা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নির্বাচনে অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর থেকে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন অফিসে দলীয় বৈঠকগুলিতে যোগ দেওয়া এবং সমাজমাধ্যমে নিট (NEET) প্রশ্ন ফাঁস কিংবা সিবিএসই পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে সরব হওয়া ছাড়া অভিষেককে ময়দানে দেখা যায়নি। এমনকি ফলতার পুনর্নির্বাচনেও প্রচারে যাননি তিনি, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোয় দল চতুর্থ স্থানে নেমে যায়।
বিজেপির বিপুল জয়ের পর অভিষেকের বহুপ্রচারিত 'ডায়মন্ড হারবার মডেল' নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা তো বটেই, এমনকি দলের ভেতরের একাংশও। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শান্তনু সেনের মতো নেতারা— যাঁরা একসময় অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন— তাঁরাও এখন দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক এবং অভিষেকের রণকৌশলকে কাঠগড়ায় তুলছেন। এই 'বেসুরো' নেতাদের তালিকায় রোজই নতুন নাম জুড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শনিবারের সফর থেকে অভিষেক নিজের দলের বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে কোনও কড়া বার্তা দেন কি না, সেদিকেই নজর সকলের।
এতদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশের 'জেড প্লাস' (Z+) ক্যাটাগরির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পেতেন। তবে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর নতুন সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই নিরাপত্তা বণ্টন করা হবে। সেই অনুযায়ী, একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, অভিষেক এখন সেটুকুই পাবেন। এই নিরাপত্তা কাটছাঁটের পর শনিবারই প্রথমবার কালীঘাটের চেনা গণ্ডির বাইরে পা রাখছেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাদের বক্তব্য, বিজেপি সরকারে আসার পর কোনও রাজনৈতিক হিংসায় মদত দেয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূল যে চরম সন্ত্রাস চালিয়েছিল, তার বিন্দুমাত্র পুনরাবৃত্তি এবার হয়নি। তার পরেও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূল নেতাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, মারধর করছেন। এর দায় তৃণমূলেরই।

