দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেসি কাণ্ডে তদন্তের মাঝেই ফের বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শতদ্রু দত্তের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে চলা মামলায় এটি তাঁর তৃতীয় হাজিরা। আগামী ১০ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতেই তাঁকে ফের থানায় ডেকে পাঠিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
গত বছর ডিসেম্বরে মেসি আসেন কলকাতায়। যুবভারতীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখান থেকেই শুরু বিতর্ক। চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বিঘ্নিত হয় মেসির নিরাপত্তা। যাঁরা চড়া দামে টিকিট কেটে এসেছিলেন মেসিকে দেখতে, তাঁরা কেউই দেখতে পান না ফলে এনিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। আয়োজক শতদ্রু দত্তকে হাজতবাস পর্যন্ত করতে হয়। কিন্তু সরকার বদলের পরই থানায় যান শতদ্রু। অরূপ বিশ্বাসের নামে মামলা দায়ের করেন।
তাঁর অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ২২ হাজার আইপিএল টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। তা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অরূপ বিশ্বাসের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। টিকিট বণ্টনের প্রক্রিয়া, কারা সেই টিকিট পেয়েছিলেন এবং পুরো বিষয়টি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল, তা নিয়েই একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।
অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত, বন্ধু, পরিবারের সদস্য এবং নিকট আত্মীয়রা কীভাবে ওইদিন মাঠে প্রবেশ করেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের প্রবেশের অনুমতি কীভাবে মিলেছিল, কোন প্রক্রিয়ায় পাস বা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, সেটি নিয়েও প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হতে পারে।
এদিকে, ওইদিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। যে এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা উপস্থিত, সেখানে অরূপ বিশ্বাস কীভাবে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই গতি বাড়াচ্ছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণেই অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিভিন্ন দিক মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই আদালতে পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

