দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্যবসায়ী থেকে অভিনেত্রী, বিগ বস বাংলায় ঘরে পা রাখার পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ধুন্ধুমার প্রতিযোগিতা। কে হবেন ক্যাপ্টেন? কে পাবেন বিশেষ সুবিধা? কে কতটা নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারবেন?—তা নিয়ে উত্তেজনা ছিল। তবে এবারের বিগ বস বাংলার ঘরে সেই প্রতিযোগিতার আগেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এল বিছানা, কম্বল আর ঘরের তাপমাত্রা।
প্রথম দিনেই শোওয়ার জায়গা নিয়ে তৈরি হল মতবিরোধ, আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে অনিন্দ্য, সৃজলা, ঝিলম ও মনামী।
ঘরে ঢোকার পর অনিন্দ্যের হাতে আসে বিগ বসের বিশেষ চিঠি। সেখানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে কোনও প্রতিযোগী তাঁকে ঘরে প্রবেশের জন্য বেছে নেননি। সেই কারণে বিশেষ সুযোগ হিসেবে মূল বেডরুম থেকে একটি সিঙ্গেল অথবা ডাবল বেড বেছে নেওয়ার অধিকার পান অনিন্দ্য। আগামী এক সপ্তাহ সেই বেড ব্যবহার করতে পারতেন তিনি।
কিন্তু সুযোগ পেয়েও নিজের জন্য বেড বেছে নিলেন না অনিন্দ্য। বরং বিগ বসের কাছে তিনি জানতে চান, নিজের জন্য বরাদ্দ বেড না নিয়ে যদি সোফায় ঘুমোতে চান, তাহলে সেটা সম্ভব কি না। বিগ বসের তরফে জানানো হয়, চাইলে নিজের পাওয়া বেড অন্য কোনও প্রতিযোগীকে দিয়ে দিতে পারেন তিনি।
এরপরই নিজের সিদ্ধান্ত জানান অনিন্দ্য। নিজের বেডটি সৃজলাকে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। অনিন্দ্যর যুক্তি, শীতের সময় সৃজলার বেশি সমস্যা হয়। পাশাপাশি, ঘরে ঢোকার সময় যে বিশেষ চিঠির মাধ্যমে তিনি এই সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও সৃজলাই তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাই নিজের পাওয়া বেড সৃজলাকে দেওয়াই তিনি ঠিক মনে করেন। অন্যদিকে, নিজে সোফায় রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন অনিন্দ্য।
তবে অনিন্দ্যর এই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয় নতুন আলোচনা। ঝিলম জানান, তাঁর একা শোয়ার অভ্যাস রয়েছে। ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করার কারণে সিঙ্গেল বেড তাঁর প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। ফলে অনিন্দ্যের পাওয়া বেডটি কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়েই তৈরি হয় নতুন প্রশ্ন।
এরই মধ্যে আলোচনায় আসে ঘরের তাপমাত্রা। প্রতিযোগীদের একাংশের দাবি, বিগ বসের ঘরে এসির তাপমাত্রা তুলনামূলক কম। তার উপর দেওয়া কম্বলও খুব একটা মোটা নয়। ফলে রাতে ঘুমোনোর সময় ঠান্ডা নিয়ে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। সব মিলিয়ে বেড এবং কম্বল নিয়ে আলোচনা ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অনিন্দ্যের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মনামীও। তাঁর বক্তব্য, ঠান্ডার সমস্যা তো সকলেরই হচ্ছে। তাহলে শুধুমাত্র সৃজলার শীতে বেশি কষ্ট হওয়ার যুক্তিতে তাঁকে বেড দেওয়া হবে কেন? মনামীর মতে, ঝিলম অন্তত নিজের প্রয়োজনের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন। কিন্তু সৃজলা নিজের কোনও অসুবিধার কথা জানাননি। তাই তাঁকে বেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক।
যদিও মনামীর প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সৃজলা। তাঁর বক্তব্য, ঘরে ঢোকার সময় প্রত্যেক প্রতিযোগী নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বেড বেছে নিয়েছেন। তখন কেউ কারও জন্য অপেক্ষা করেননি। তাই অনিন্দ্য যদি নিজের পাওয়া বেড অন্য কাউকে দিতে চান, তাহলে সেটি নিয়ে এত আলোচনা কেন—সেই প্রশ্নই তোলেন সৃজলা।
তবে বেড-কম্বল নিয়ে এই টানাপোড়েনের পাশাপাশি বিগ বসের ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে আরও বড় প্রতিযোগিতা—ক্যাপ্টেন্সির লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে প্রথম ক্যাপ্টেন হিসেবে উঠে এসেছে ভরত কলের নাম। অর্থাৎ, ঘরে ঢোকার প্রথম দিনেই একদিকে যেমন শোওয়ার জায়গা নিয়ে মতবিরোধ, অন্যদিকে তেমনই ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্বও পেয়ে গেলেন ভরত কল।
প্রথম ক্যাপ্টেন হিসেবে ভরত কলের দায়িত্ব এখন ঘরের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার। কারণ ক্যাপ্টেনের হাতে থাকা দায়িত্ব এবং বিশেষ ক্ষমতা আগামী দিনে প্রতিযোগীদের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বেড নিয়ে যে টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়েছে, তার সঙ্গে ক্যাপ্টেন্সির সিদ্ধান্ত যোগ হলে বিগ বসের ঘরের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই দেখছেন দর্শকরা।
অর্থাৎ, বিগ বসের ঘরে প্রথম দিনেই সামনে এল প্রয়োজন, সুবিধা, ন্যায্যতা এবং নেতৃত্বের প্রশ্ন। একজনের প্রয়োজন সিঙ্গেল বেড, কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঠান্ডা থেকে বাঁচা, আবার কেউ নিজের পাওয়া সুযোগ অন্য প্রতিযোগীকে দিয়ে দিতে চাইছেন। এরই মাঝে প্রথম ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ভরত কল।
সাধারণত বিগ বসের প্রথম দিনটা কাটে পরিচয়, গল্প-আড্ডা আর একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এবারের ঘরে শুরুটাই হল ভিন্ন সুরে। সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি হওয়ার আগেই একটি বেডকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গেল মতবিরোধ, আর তার পাশাপাশি শুরু হয়ে গেল ক্যাপ্টেন্সির নতুন সমীকরণও।
প্রথম দিনেই যদি বেড-কম্বল নিয়ে এমন উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্বও এসে যায় ভরত কলের কাঁধে, তাহলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার। বেড নিয়ে শুরু হওয়া টানাপোড়েন কি এখানেই শেষ, নাকি ক্যাপ্টেন্সির সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হবে আরও নতুন বিতর্ক—উত্তর মিলবে বিগ বসের পরবর্তী পর্বগুলোয়।

