দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নত শিক্ষার দাবিতে পথে নেমে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশি হেনস্থা বা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হয় স্বেচ্ছাসেবকদের। সেইসব কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবার এক অভিনব উদ্যোগ নিল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)। মঙ্গলবার দেশজুড়ে নিজেদের এক নিজস্ব 'লিগ্যাল এইড প্ল্যাটফর্ম' বা আইনি সহায়তা ওয়েবসাইট (CJP legal aid platform) চালু করল তারা।
দলের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই পরিষেবার জন্য কোনও টাকা লাগবে না, 'একদম বিনামূল্যে, সারাজীবনের জন্য' এই সহায়তা পাবেন সিজেপি সমর্থকরা (CJP volunteers legal rights)।
মঙ্গলবার এক্স (X)-এর একটি পোস্টে এই ওয়েবসাইটের লিঙ্ক শেয়ার করে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, 'সিজেপির লিগ্যাল এইড প্ল্যাটফর্ম এখন লাইভ (Cockroach Janta Party legal help)। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে সরব হতে গিয়ে যদি আপনি কোনও ধরনের হেনস্থা, ভয় দেখানো বা হিংসার শিকার হন, তবে অবিলম্বে আমাদের এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন।'
দলের সমস্ত স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে 'সেরা আইনি সাহায্য' দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি। সিজেপি-র লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বা আইনি সেলের প্রধান রত্না সিং-ও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই ঘোষণা শেয়ার করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে রত্না লেখেন, 'আজ আমরা শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইট লঞ্চ করছি না, বরং দেশজুড়ে আইনি সহায়তার এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করছি। ককরোচ জনতা পার্টির কোনও সমর্থক বা স্বেচ্ছাসেবককে যেন আইনি লড়াইয়ের ময়দানে আর একা না লড়তে হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।'
গত ২৮ জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল এবং সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছিলেন যে, দলের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার ট্র্যাক রাখতে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট আনা হবে। অবশেষে সেই ওয়েবসাইটের পথ চলা শুরু হল।
জানা গেছে, এই প্ল্যাটফর্মে দুই পক্ষকেই, অর্থাৎ যারা আইনি সাহায্য চাইছেন এবং যে আইনজীবীরা সাহায্য করতে ইচ্ছুক, অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। আইনি সাহায্য পেতে চাইলে একজন ব্যবহারকারীকে শুধুমাত্র তাঁর কয়েকটি 'প্রাথমিক বা ন্যূনতম তথ্য' দিয়ে লগ-ইন করতে হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর কাছাকাছি থাকা কোনও ভেরিফায়েড আইনজীবীর সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করে দেওয়া হবে। এরপর ব্যবহারকারী সেই আইনজীবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে নিজের সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ দিতে পারবেন। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া আইনি পরামর্শের জন্য কানাকড়িও খরচ করতে হবে না।
পাশাপাশি, পুলিশি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থার কথা মাথায় রেখে প্ল্যাটফর্মটিতে একটি আপৎকালীন হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বর, ইমেইল আইডি এবং স্পেশাল রিকোয়েস্ট ফর্ম রাখা হয়েছে। কোনও স্বেচ্ছাসেবক বা সমর্থক আচমকা গ্রেফতার বা আটক হলে এর মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া, গ্রেফতারির সময় একজন নাগরিকের কী কী আইনি অধিকার থাকে, সে বিষয়েও এই ওয়েবসাইটে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
গত মাসে যখন এই ওয়েবসাইটের ব্লু-প্রিন্ট বা পরিকল্পনা প্রথম প্রকাশ্যে আসে, তখনই রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল এক বিরাট ঘোষণা করেছিলেন। এই লিগ্যাল এইড ওয়েবসাইটের জন্য তিনি একাই ১ কোটি টাকা অনুদান দেন। সেই সঙ্গে সারা দেশের আইনজীবীদের কাছে এই তহবিলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।
সিব্বল সেদিন বলেছিলেন, 'আমরা এমন একটা ওয়েবসাইট তৈরি করতে চলেছি যেখানে সারা দেশের আইনজীবীরা নিজেদের নাম, এলাকা এবং তারা কী ধরনের আইনি পরিষেবা দিতে ইচ্ছুক, তা বিনামূল্যে নথিভুক্ত করতে পারবেন।'
বলাই বাহুল্য, ককরোচ জনতা পার্টির এই নতুন লিগ্যাল এইড প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল বাড়বে, তেমনই দেশজুড়ে তাদের সংগঠনের আইনি ভিতও যে মজবুত হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

