দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরপর তিনবার বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ ইতালি। ইতিহাসে কোনও প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশের কপালে এই কলঙ্ক জোটেনি। মাঠের দুর্দশা মেনে নেওয়া এমনিতেই কঠিন। কিন্তু তার চেয়েও বড় ধাক্কা এল ময়দানের বাইরে থেকে। উঠল রেফারি নিয়োগে কারসাজির অভিযোগ (Italy Football Scandal)।
তদন্তে মিলান পুলিশ। প্রশ্নটা স্পষ্ট—বিশ্বকাপে যেতে না পারার পেছনে দুর্বল পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভেতর থেকে পচে যাওয়া ব্যবস্থাও কি সমানভাবে দায়ী নয়?
জানালায় টোকা, বড় কেলেঙ্কারির শুরু
গল্পের শুরু ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। সেরি আ-র একটা ম্যাচ—উদিনেসি বনাম পার্মা। ভিডিও রিভিউ ঘরে বসে দুই রেফারি হ্যান্ডবলের একটা ঘটনা পরীক্ষার পরে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক তখনই একজন ঘরের জানালায় টোকা মারেন। মাথা তোলেন রেফারি। কিছুক্ষণ পরে মাঠের রেফারিকে রিভিউ দেখতে বলা হয়। পেনাল্টীর নির্দেশে উদিনেসি ম্যাচ ১-০-তে জিতে নেয় (Serie A News)।
গোটা ঘটনা বেআব্রু হয় পরে। জানা যায়, টোকাটা মেরেছিলেন ইতালির শীর্ষ রেফারি নিয়োগকারী জানলুকা রোচ্চি (Gianluca Rocchi)। তাঁর বিরুদ্ধেই এখন মিলানের সরকারি তদন্তকারীদের কাছে জেরার মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ!
রোচ্চি কে?
রোচ্চি নিজে ছিলেন ইতালির সেরা রেফারিদের একজন। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল পরিচালনার বরাত পান। ২০১৯ সালে ইউরোপা লিগ ফাইনালের দায়িত্বে ছিলেন। অবসরের পর সেরি আ ও সেরি বি-র রেফারিদের নিয়োগকারী হন (Referees Organization)।
তাঁর বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ: ২০২৫ সালের এপ্রিলে কোপা ইতালিয়ার সেমিফাইনালে—ইন্টার মিলান বনাম এসি মিলান ম্যাচের দিন—রোচ্চি কয়েকজনের সঙ্গে মিলে রেফারি নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চালান (Inter Milan)। ইন্টার যে রেফারিকে পছন্দ করে না, তাঁকে একটা ম্যাচে দিয়ে অন্য ম্যাচে সরিয়ে রাখার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। একে ইতালিতে 'জালিয়াতি' হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও রোচ্চি মচকাতে নারাজ। দাবি, তিনি 'নির্দোষ প্রমাণ করে বেরোবেন!' এর জন্য স্বেচ্ছায় সাময়িকভাবে পদ ছেড়েছেন।
'ক্যালচোপোলি'র ভূত ফিরল?
আজুরি সংবাদমাধ্যম একটাই প্রশ্ন—'এটা কি নতুন ক্যালচোপোলি (Calciopoli)?' ২০ বছর আগে ইতালিতে বড়সড় কেলেঙ্কারি সামনে আসে। জানা যায়, সেরি আ-র বড় ক্লাবগুলো রেফারি নিয়োগ প্রভাবিত করত। তদন্তে অভিযুক্ত জুভেন্তাস অবনমনের পর সেরি বি-তে নামে। শিরোপা কেড়ে নেওয়া হয়। সেই স্মৃতি এখনও ইতালির ফুটবলে তাজা। তাই সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই ছড়িয়েছে আতঙ্ক (Sports News Bangla)।
ইন্টার মিলান (Inter Milan) এই তদন্তে সরাসরি লিপ্ত না থাকলেও অভিযোগে তাদেরও নাম জড়িয়েছে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট বেপে মারোত্তা (Beppe Marotta) বলেছেন, 'আমরা কোনো রেফারির তালিকা রাখি না। আমরা কোনও ষড়যন্ত্রে নেই!'
রেফারি সংস্থাও বিপর্যস্ত
শুধু রোচ্চি নন। ইতালির পুরো রেফারি সংস্থাটাই এখন এলোমেলো। আগের প্রেসিডেন্ট ২০২২ সালে পদত্যাগ করেছিলেন—তাঁর নিজস্ব আইনজীবী মাদক পাচারের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর। পরের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি ১৩ মাসের নিষেধাজ্ঞার সাজা ভুগছেন, নীচুতলার রেফারি নিয়োগকারীদের জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগে। যার অর্থ, রেফারি সংস্থার প্রেসিডেন্ট নেই। শীর্ষ রেফারি নিয়োগকারী বরখাস্ত। পুরো ব্যবস্থা এখন আক্ষরিক অর্থে নেতৃত্বশূন্য (Football Updates)।
বিশ্বকাপ মিস করার সঙ্গে যোগ কোথায়?
ইতালির ফুটবল প্রশাসন দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার বাইরে নয় (International Football News)। বিশ্বকাপে যেতে না পারার পেছনে শুধু খারাপ ফুটবলার বা কোচ নন, পুরো একটা ব্যবস্থার পচন দায়ী। যে রেফারি সংস্থা দুর্নীতিতে ডুবে, যে ফেডারেশন নিজের ঘর সামলাতে ব্যর্থ, যে প্রশাসন ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত—সেই পরিবেশে ভাল ফুটবল আশা করাটাই বাতুলতা! ২২ জুন নতুন ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন। কিন্তু এই কেলেঙ্কারির জের ধরে ইতালির সর্বোচ্চ ক্রীড়া সংস্থা হস্তক্ষেপ করলে তা আর আয়োজিত হবে বলে মনে হয় না।
দেশের ক্রীড়ামন্ত্রীর চোখে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই অভিযোগগুলো কীভাবে সামলানো হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবস্থাটার ভেতরে 'অ্যান্টিবডি' কাজ করছে কিনা, সেটাই আদত প্রশ্ন। একটা দেশের ফুটবল কতটা অসুস্থ হলে পরপর তিনবার বিশ্বকাপ মিস করে—আর সেই সময়েই রেফারি দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে মিলান পুলিশ নামে—দ্রুত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে (World Football Updates)।

