দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা স্নেহাশিস চক্রবর্তী। হুগলির কোন্নগরের কানাইপুরে নিজের বাড়িতে বসে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন একথা। জানালেন, সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি আর ফিরতে চান না। কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত থাকবেন না।
তবে লেখালেখি, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের মাধ্যমে জনপরিসরে সক্রিয় থাকবেন আগামিদিনে।
বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন স্নেহাশিস। ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে রাজনৈতিক ময়দানে আর দেখা যায়নি। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন না। অবশেষে বৃহস্পতিবার সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনলেন।
নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্নেহাশিস বলেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দল পরিচালনার ধরন তাঁর ভাবনার সঙ্গে আর মেলে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের উন্নয়ন কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক বিরোধিতা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা এবং অশালীনতার পর্যায়ে পৌঁছেছে।' এই ধরনের রাজনীতির সঙ্গে তিনি আর নিজেকে যুক্ত রাখতে চান না।
তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও সরব হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। নির্বাচনী পরাজয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের হয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও জেলা স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীদের সঙ্গে আরও বেশি সরাসরি যোগাযোগ থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।' তাঁর দাবি, দলের অনেক নেতা-কর্মীর পক্ষে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হত না, যা সংগঠনের একটি বড় ঘাটতি ছিল।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দলের মধ্যে বিধায়ক ও সাংসদদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের পরিসর খুবই সীমিত ছিল। নির্বাচনে পরাজয়ের পর জনপ্রতিনিধিদের নানা পদ নিয়ে নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষেরই প্রতিফলন।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন প্রসঙ্গেও এদিন মন্তব্য করেছেন স্নেহাশিস। তিনি বলেন, 'মানুষ ভোট দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় এনেছেন। নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। মানুষের প্রত্যাশা তারা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।'
মন্ত্রী হিসেবে নিজের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে স্নেহাশিস দাবি করেন, তাঁর তিন বছরের মেয়াদে পরিবহণ দফতরের রাজস্ব প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৭০০ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করেছিল। আগামী দিনে পরিবারকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি লেখালেখি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণেই মনোনিবেশ করবেন।

