দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার (Dhaka) সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই বিপ্লব উদযাপন সমাবেশে বিস্ফোরণ হয়েছে। সোমবার রাত দশটার পর সমাবেশ স্থলে এই বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত চারজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব বার্ষিকী উদযাপনের জন্য এই সভা ডাকা হলেও তা মূলত ছিল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগ বিরোধী সমাবেশ।
তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় সভার আয়োজক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন এই ঘটনা প্রশাসনের ষড়যন্ত্র। তিনি আরো অভিযোগ করেন, পরিকল্পনা করে সভা শুরুর মুখে এলাকায় লোডশেডিং করে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে জাতীয় নাগরিক পার্টির অভিযোগ। এনসিপি নেতা-কর্মীদের খুনের চেষ্টা হয়েছিল বলেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দলটি।
২০২৪ এ বাংলাদেশের কোটাবিরোধী আন্দোলনের মূল সংগঠক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের তৈরি জাতীয় নাগরিক পার্টি এক মাস ব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে। পদযাত্রা, সমাবেশ ইত্যাদি করছে তারা।
তাদের প্রচারে মূলত দুটি বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। একদিকে তারা হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসন কায়েমের অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না করায় বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে খর্গহস্ত দলটি। একই অভিযোগে ময়দানে আন্দোলন শুরু করেছে বাংলাদেশ সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী। বেশ কিছুদিন ধরেই জামাত এবং এনসিপি শাসক দল বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে তাদের পরিণতি ও অচিরেই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগের মতো হবে। অর্থাৎ বিএনপিও গণরোষের মুখোমুখি হতে চলেছে। হাসিনা ও আওয়ামী লিগকে বিএনপি পিছনের দরজা দিয়ে রাজনীতিতে ফেরাতে চাইছে বলেও অভিযোগ এই দুই বিরোধী দলের।
সমালোচনার সেই রেস ধরেই সোমবার রাতের ঘটনায় এনসিপি নেতৃত্ব আওয়ামী লিগ নয়, দায় চাপিয়েছে বিএনপি প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বেশি রাত পর্যন্ত এনসিপি নেতৃবৃন্দ স্থানীয় থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। পরে পদস্থ পুলিশকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছাড়ে।
বিস্ফোরণে আহতরা হলেন মহম্মদ শাহীন খন্দকার (৩০), মহম্মদ জসিম (২৬), মহম্মদ শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেন। তাঁদের সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

