দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিপাড়ার অন্দরে চলতে থাকা ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হল ডিম, টমেটো এবং ইট ছোড়াছুড়ির ঘটনায়। টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে টালিগঞ্জের ভরাট মাঠ, সর্বত্রই দেখা গেল চরম উত্তেজনার ছবি। ম্যানেজার গিল্ডকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
Cine Production Managers Association-এর দাবি, গত ৪ মে থেকে সংগঠনের সম্পাদক মহঃ হাসান এবং সহ-সম্পাদক নিরুপম দে (বাবাই)-কে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। সংগঠনের অভিযোগ, শুধু ব্যক্তিগত কটাক্ষ নয়, তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও একাধিকবার আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি 'জঙ্গি' ও 'হার্মাদ' আখ্যা দিয়ে জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগে সঞ্জয় গুহ, তাপস খাঁ, পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক, বাপি সান্যাল, সঞ্জীব বণিক এবং সুব্রত বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ২৮ মে এনটিওয়ান স্টুডিওতে ম্যানেজার সনত চট্টোপাধ্যায়ের রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। ওই ঘটনার পর থেকেই অভিযোগের তির ঘুরে যায় বিজেপি-সমর্থক সঞ্জয় গুহর দিকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবারের অশান্তি আরও জটিল করে তোলে পরিস্থিতি।
বুধবার বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, মহঃ হাসান এবং নিরুপম দে-কে পদ ছাড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই বৃহস্পতিবার সকালের বৈঠক ঘিরে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। সকাল সাড়ে আটটায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বৈঠকের ডাক দেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত আয়োজন করা যায়নি। অভিযোগ ওঠে, সেখানে এমন বহু ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছিলেন যাঁরা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত নন। উপস্থিত একাংশ তাঁদের 'বহিরাগত' বলেই দাবি করেন।
পরে ভরাট মাঠে জমায়েত হলেও পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক থাকেনি। একদিকে হাসান-নিরুপমের সমর্থকরা, অন্যদিকে সঞ্জয় গুহ ঘনিষ্ঠ শিবির। অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা, স্লোগান এবং তার পরেই ডিম ও ইট ছোড়াছুড়ি। 'চোর চোর' স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, বাইরের লোক এনে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়েছিল।
হাসান-নিরুপম শিবিরের দাবি, পদত্যাগের প্রশ্নে কোনও সিদ্ধান্ত বৈঠকের পরই নেওয়ার কথা ছিল। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধানের সম্ভাবনাও ছিল। তাঁদের অভিযোগ, যাঁরা বৈঠকের বিরোধিতা করছিলেন, তাঁদের অনেকেই গিল্ডের সদস্য নন।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, পদত্যাগের কথা যখন বলা হয়েছে, তখন তা অবিলম্বে কার্যকর হওয়া উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়া কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, টলিপাড়ার সমস্যা কি আলোচনার মাধ্যমে মিটবে, নাকি ভবিষ্যতেও ডিম, ইট আর সংঘাতের রাজনীতি শিল্পের পরিবেশকে আরও অস্থির করে তুলবে?

