দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পর মণিপুর বিধানসভায় পা রাখলেন কুকি সম্প্রদায়ের বিধায়করা। ২০২৩ সালের মে মাসে রাজ্যে জাতিবিদ্বেষী হিংসা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনও বিধানসভা অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত হলেন কুকি জনজাতির জনপ্রতিনিধিরা। বুধবার ইম্ফলে দ্বাদশ মণিপুর বিধানসভার অষ্টম অধিবেশন শুরু হয়েছে।
আর সেই অধিবেশনেই এই উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল।
বিধানসভার প্রথম বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন সাইতু বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হাউখোলেট কিপজেন এবং সাইকুল বিধানসভা কেন্দ্রের বিধিনীতি কিমনেও হাকপ কিপশং। দীর্ঘদিন পর বিধানসভায় ফিরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাউখোলেট কিপজেন। অন্যদিকে, কুকি সম্প্রদায়ের অপর এক বিধায়ক তথা রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচিকা কিপজেন ভার্চুয়ালের মাধ্যমে এই অধিবেশনে যোগ দেন। ফেব্রুয়ারি মাসে মণিপুর বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে ছয়জন কুকি-জো বিধায়ক ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে মণিপুরে কুকি, জোমি ও হমার সম্প্রদায়ের মোট নয়জন বিধায়ক রয়েছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে বিধানসভার গত অধিবেশনে কয়েকজন কুকি বিধায়ক অনলাইনে বা ভার্চুয়ালি অংশ নিলেও, ইম্ফলের বিধানসভা ভবনে সশরীরে কাউকেই উপস্থিত দেখা যায়নি। ফলে বর্তমান জাতিগত উত্তেজনার আবহে কুকি বিধায়কদের এই সরাসরি উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কুকি গোষ্ঠীগুলির তরফ থেকে পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থার জোরালো দাবি তোলার মাঝেই এই ঘটনা ঘটেছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বিধানসভার এই অধিবেশন।
রাজ্যের শান্তি এবং সম্প্রীতি ফেরানোর ক্ষেত্রে একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি জানান, "জনপ্রতিনিধিদের এই সদিচ্ছা একটি ভাল লক্ষণ এবং এটি অত্যন্ত স্বাগত জানানোর মতো একটি পদক্ষেপ।" সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মণিপুর ফের শান্তির পথে এগিয়ে চলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

