দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওজন কমানোর জন্য অ্যাপেল সিডার ভিনিগার (ACV) খাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। দ্রুত ওজন ঝরানোর ঘরোয়া উপায় হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এর প্রচারও কম নয়। কিন্তু 'প্রাকৃতিক' বলেই যে কোনও জিনিস নিরাপদ—এমন নয়। অতিরিক্ত বা ভুল ভাবে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় থেকে শুরু করে পেটের সমস্যা, গলায় জ্বালা এমনকি শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
আপেল পচিয়ে তৈরি হয় এই ভিনিগার। এতে থাকা অ্যাসেটিক অ্যাসিড-এর কারণেই এর তীব্র অম্লতা। কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রায় সামান্য উপকারী প্রভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা সীমিত এবং এটিকে কোনওভাবেই দ্রুত ওজন কমানোর নিশ্চিত উপায় বলা যায় না।
সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলির একটি হল দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যাওয়া। নিয়মিত অ্যাসিডের সংস্পর্শে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংবেদনশীলতা ও ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা, পেট ভার লাগা বা অস্বস্তি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে খাবার পাকস্থলী থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়াও ধীর হতে পারে।
গলা ও খাদ্যনালীতেও জ্বালা তৈরি করতে পারে এই পানীয়। আরও গুরুতর ঝুঁকি হল লো পটাশিয়াম বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণের সঙ্গে এমন সমস্যার যোগ পাওয়া গিয়েছে। পটাশিয়াম কমে গেলে দুর্বলতা, পেশিতে টান এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রাইটিস বা পাকস্থলীর আলসারে আক্রান্তদের। দীর্ঘস্থায়ী কিডনির সমস্যা থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে এটি খাওয়া ঠিক নয়। ডায়াবেটিসের ওষুধ, ডাইইউরেটিক বা মূত্রবর্ধক ওষুধ এবং Digoxin-এর মতো হৃদ্যন্ত্রের ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
তাই ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত অ্যাপেল সিডার ভিনিগার শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। খেতে হলে সরাসরি নয়, পর্যাপ্ত জলে মিশিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দাঁতের ক্ষতি কমাতে স্ট্র ব্যবহার করা যেতে পারে এবং শোওয়ার ঠিক আগে এটি না খাওয়াই ভালো।
তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, গিলতে সমস্যা, তীব্র অ্যাসিডিটি বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া জরুরি। ওজন কমানোর জন্য কোনও একটি পানীয়কে 'ম্যাজিক' সমাধান ভাবার বদলে খাবার, শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শের উপরই ভরসা করা নিরাপদ।

