দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝ আকাশে নয়, মাটি ছোঁয়ার ঠিক পর অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন শারজাহ থেকে চেন্নাইগামী এয়ার আরবিয়া ফ্লাইটের এক যাত্রী। আজ ভোরে চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর বিমানটি যখন ট্যাক্সিওয়ে ধরে ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই এক পুরুষ যাত্রী ইমার্জেন্সি এক্সিট খুলে বাইরে লাফ দেন।
এই ঘটনায় বিমানের অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, বিমানটি মূল রানওয়ে থেকে বেরিয়ে ট্যাক্সিওয়ে দিয়ে পার্কিং বের দিকে যাওয়ার সময় এই ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি তখন পুরোপুরি থামেনি। হঠাতৎ ওই যাত্রী ইমার্জেন্সি ডোর খুলে নিচে লাফ দেন। চেন্নাই বিমানবন্দরের এক শীর্ষ আধিকারিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, "হ্যাঁ, বিমানটি যখন ধীরগতিতে চলছিল তখনই তিনি ঝাঁপ দেন। তবে এতে বিমানে কোনও ক্ষতি হয়নি এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেনি।"
শারীরিক অসুস্থতাই কি কারণ?
প্রাথমিক তদন্তে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, ওই যাত্রী উড়ান চলাকালীন অসুস্থ বোধ করছিলেন। ফ্লাইটের ভেতরে দু'বার বমি করেছিলেন এবং অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। সে কারণেই কি তিনি এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিরাপত্তা ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার পরপরই বিমানের পাইলট গ্রাউন্ড সিকিউরিটিকে সতর্ক করেন। সিআইএসএফ (CISF) কর্মীরা তৎক্ষণাৎ ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরে তাঁকে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই যাত্রীর পরিচয় এখনও জানানো হয়নি, তবে অসমর্থিত সূত্রে খবর তিনি তামিলনাড়ুর পুদুকোট্টাই জেলার বাসিন্দা হতে পারেন।
বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন
এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভোর ৩:২৩ থেকে ৪:২৩ পর্যন্ত বিমানবন্দরের মূল রানওয়েটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় উড়ানগুলি সেকেন্ডারি রানওয়ে দিয়ে ওঠানামা করে। প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
অ্যাভিয়েশন সেফটি প্রোটোকল লঙ্ঘন করায় ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় অন্য কোনও যাত্রী বা বিমানকর্মীর চোট লাগেনি।

