দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলে চরম সংকট। বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার আড়াআড়ি বিভাজনের আশঙ্কায় কাঁপছে শাসক শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বারবার ডাক পাঠানো সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন বিধায়ক ফোন এড়িয়ে চলছেন বলে জল্পনা।
এই তীব্র টানাপড়েন ও দল ভাঙার আশঙ্কার আবহেই এবার কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
রবিবার দুপুরে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে আসতে শুরু করেছেন দলের বিধায়করা। পরিস্থিতি এতটাই সংবেদনশীল যে, কার মুখে কী বার্তা রয়েছে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই চলছে তুমুল চাপানউতোর।
হেভিওয়েটদের ভিড় কালীঘাটে
রবিবার সকাল থেকেই কালীঘাট চত্বরে রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর একে একে বৈঠকে যোগ দিতে এসে পৌঁছান দলের একঝাঁক হেভিওয়েট ও প্রবীণ বিধায়ক। এখনও পর্যন্ত কালীঘাটের অন্দরে যাঁদের ঢুকতে দেখা গেছে, তাঁরা হলেন, বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বেলেঘাটার বিধায়ক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মেটিয়াবুরুজের আব্দুল খালেক মোল্লা, ধনেখালির অসীমা পাত্র এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। এছাড়াও রয়েছেন কালিগঞ্জের বিধায়ক খলিফা আহমেদ, বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফ উর রহমান। ছিলেন মোশারাফ হোসেন।
এছাড়াও জেলা ও প্রান্তিক এলাকাগুলি থেকেও একের পর এক বিধায়ক বৈঠকে এসে হাজিরা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পাথরপ্রতিমার সমীর পাঁজা, মালতিপুরের রহিম বক্সী, বজবজের অশোক দেব, রুকবানুর রহমান, পাঁচলার গুলশন মল্লিক, স্বরূপনগরের বীনা মণ্ডল, চাপড়ার জেবের শেখ এবং হরিশচন্দ্রপুরের মতিবুর রহমান।
কেন এই জরুরি বৈঠক? জল্পনা তীব্র
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক স্রেফ কোনও রুটিন সাংগঠনিক পর্যালোচনা নয়। ভোটের ফলের পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ফোনও বেশ কিছু বিধায়ক এড়িয়ে যাচ্ছেন বা 'নট রিচেবল' থাকছেন বলে খবর। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে বড় ভাঙনের জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দল ধরে রাখতে এবং বিধায়কদের মনোভাব সরাসরি বুঝতে তড়িঘড়ি এই তলব করেছেন মমতা এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ক্ষুব্ধ বিধায়কদের মানভঞ্জন করা যাবে, নাকি কালীঘাটের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র রূপ নেবে, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যের নজর কালীঘাটের দিকে।

