দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপ শুরুর আর ক'দিন মাত্র বাকি। তার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিল কানাডা (Canada Football Team)। স্কোরলাইন যা বলছে, আসল বার্তা তার চেয়েও বড়। কারণ প্রতিপক্ষের কোচ ফাবিও কানাভারো (Fabio Cannavaro) খেলাশেষে কানাডাকে প্রশংসায় ভরালেন।
২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালির অধিনায়ক সাফ জানালেন, কানাডার উন্নতি চোখে পড়ার মতো। বললেন, 'গত তিন-চার বছরে আমি খুব ভাল কিছু দেখেছি। কানাডার হাতে এখন সত্যি দুরন্ত প্রতিভা রয়েছে (Sports News Bangla)।'
শুধু জয় নয়, পরিকল্পনার পরীক্ষা
এডমন্টনে বৃষ্টিভেজা পরিবেশে খেলা হলেও কানাডার কোচ জেসি মার্শের (Jesse Marsch) কাছে ম্যাচের গুরুত্ব অন্যত্র। উজবেকিস্তানকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, কারণ তাদের খেলার ধরন বিশ্বকাপের প্রথম দুই প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও কাতারের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে। মার্শ যে প্রথম একাদশ নামান, তাকে বিশ্বকাপের সেট টিম হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বল দখল রেখে, আক্রমণ গড়ে ও প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। লড়াইয়ের পর মার্শ বলেন, 'বল মুভমেন্ট, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার পরিকল্পনা এবং মাঠে ফুটবলারদের যোগাযোগ—সবকিছুতেই আমি খুশি। গোল না পেলেও প্রথমার্ধে আমরা বিপজ্জনক ছিলাম। ছেলেরা বুঝতে পেরেছে কীভাবে প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলতে হয়।'
চোটের চিন্তা কমছে, বেঞ্চও জোগাচ্ছে ভরসা
বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর চোটগ্রস্ত ফুটবলারদের ফিটনেস। মইসে বম্বিতো এবং রিচি লারিয়া দু'জনই মাঠে নেমেছেন। বম্বিতো পরে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়লেও নতুন কোনও চোট পাননি। মার্শের কথায়, 'ও খুব দ্রুত উন্নতি করছে। প্রতিদিনই এগোচ্ছে। আমরা এখনও আশাবাদী।'
দ্বিতীয়ার্ধে বেঞ্চ থেকে নামা ফুটবলাররাও নজর কাড়েন। গোল করেন জনাথন ওসোরিও। লুক দ্য ফুজেরোলস রক্ষণে পরিণত। টানি ওলুওয়াসেই দুটি অ্যাসিস্ট বাড়ান। জেডেন নেলসন ও রালফ প্রিসোও নিজেদের দাবি জোরালো করেছেন। অন্যদিকে হাঁটুর গুরুতর চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে মার্সেলো ফ্লোরেস। তাঁর পরিবর্তে কাকে নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত আরও কঠিন। তবে কোচের কাছে তা ইতিবাচক সমস্যা!
গোলকিপার বিতর্কেও মিলল উত্তর
কানাডার গোলকিপার নিয়ে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। ম্যাক্সিম ক্রেপোর দুরন্ত দুটি সেভ সেই বিতর্ক অনেকটা থামিয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষরা কানাডার হাই ডিফেন্সের পিছনে বল ফেলতে চাইবে। সেই পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা দেখিয়েছেন ক্রেপো। মার্শ বলেন, 'এই সপ্তাহে গোলকিপার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই!'
এদিনের খেলায় প্রথমার্ধে কয়েকটি রক্ষণাত্মক ভুল চোখে পড়লেও সেগুলো ব্যতিক্রম। সামগ্রিকভাবে কানাডার ডিফেন্স এখনও যথেষ্ট মজবুত। কোচের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলিতে খুব কম গোল হজম করেছে দল। বিশ্বকাপের আগে কানাডা শিবিরে এখন সবচেয়ে বড় পাওনা আত্মবিশ্বাস। কোচ জেসি মার্শের কথাতেই সেই ছবি স্পষ্ট: 'আমরা যদি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারি, তাহলে আমাদের বিশ্বকাপে ভাল খেলার সুযোগ থাকবে।'

