দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচ শেষ। প্রেস কনফারেন্স শুরু হয়েছে। পরাজিত আরিনা সাবালেঙ্কা উপস্থিত (Aryna Sabalenka)। কিন্তু বক্তব্যে কোনও গা বাঁচানো ব্যাখ্যা নেই। কোনও অক্ষম অজুহাতও নেই। শুধু একটাই কথা: 'এই মুহূর্তে আমি টেনিস ছেড়ে দিতে চাই। কয়েকদিন পরে কী মনে হবে জানি না। আশা করি মানসিকভাবে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারব।'
ফরাসি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে এমন এক পরাজয় হজম করলেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা, যা শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, মানসিকভাবেও বড় ধাক্কা হানল (French Open)। ডায়ানা শ্নাইডারের বিরুদ্ধে একসময় ৬-৩, ৫-২ এগিয়ে ছিলেন তিনি (Diana Shnaider)। ম্যাচ জিততে আর মাত্র দু'টি পয়েন্ট দরকার। সেখান থেকে টানা ১০টি গেম হাতছাড়া। শেষ সেটে পর্যুদস্ত হলেন ৬-০ ফলে। আর সেই পরাজয়ের পরই বেরিয়ে এল একরাশ হতাশা (Tennis News Bangla)।
ম্যাচ হাতের মুঠোয়, তারপর ধস
রোলাঁ গারোঁর এ বারের ড্রয়ে সাবালেঙ্কার সামনে খেতাব জেতার বড় সুযোগ ছিল। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইগা শিয়নটেক আগেই ছিটকে গিয়েছেন। বড় নাম খুব বেশি নেই। কেরিয়ারে সাবালেঙ্কা চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছেন ঠিকই। কিন্তু সবকটিই হার্ড কোর্টে। ক্লে কোর্টে প্রথম বড় সাফল্যের সুযোগ ছিল এবার।
এদিন প্রথম দেড় সেট পর্যন্তও সব পরিকল্পনামাফিক। কিন্তু তারপর ম্যাচের রং বদলে যায়। পারফরম্যান্স নিয়ে সাবালেঙ্কার সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি, 'মানসিকভাবে আমি খুব গভীর এক অন্ধকার গর্তে পড়ে গিয়েছিলাম। আর সেখান থেকে বেরোতে পারিনি।'যোগ করেন, 'শেষ কবে টানা ১০টি গেম হেরেছি, মনে করতে পারছি না!'
সুযোগ নিলেন শ্নাইডার
ম্যাচের শেষ দিকে সাবালেঙ্কার শরীরী ভাষা সবটুকু বলে দেয়। একটি পয়েন্ট হারানোর পর কোর্টে দাঁড়িয়ে চিৎকার করেন তিনি। তখনই স্পষ্ট: নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে! পুরো ম্যাচে ৫৭টি অনিচ্ছাকৃত ভুল (Unforced error) করেন সাবালেঙ্কা। অন্যদিকে প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামা শ্নাইডার ঝুঁকি কম নিয়ে নিয়মিত বল ফেরাতে থাকেন। যা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দেয়।
হার সামলাতে 'ভাঙচুরের ঘর'!
ম্যাচের পর নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কয়েকবার 'জানি না' বলেই থেমে যান সাবালেঙ্কা। তারপর খানিক রসিকতার সুরে মন্তব্য, 'আমি বুঝে গিয়েছি, কী করতে হবে। এমন একটা জায়গায় যাব, যেখানে সবকিছু ভাঙা যায়। হয়তো কাল পুরো দিনটাই কাটাব জিনিসপত্র ভেঙে। কাজে লাগতে পারে, নাও পারে!' পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি করেন তিনি। বলেন, 'হয়তো আমি খুব বেশি ভাবছি, যে ক্লে বা ঘাসের কোর্টে এখনও গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে পারিনি। এই ভাবনাই বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলছে। এভাবে হারতে হারতে আমি ক্লান্ত!'
গত বছর কোকো গফের বিরুদ্ধে ফরাসি ওপেন ফাইনালে যে ধরনের পতন, এ বছর কোয়ার্টার ফাইনালেও সেই একই ছবি ফিরে এল। প্রতিপক্ষ বদলেছে, টুর্নামেন্টের পর্যায় বদলেছে, কিন্তু হারার ধরন পাল্টায়নি। আর সেটাই এই মুহূর্তে সাবালেঙ্কার কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা।

