দ্য ওয়াল ব্যুরো: মে মাসের শুরুতেই সাধারণ ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে আকাশছোঁয়া হল বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারণ কৌশলের প্রভাবে দিল্লিতে ১৯ কেজি ওজনের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৩,০৭১.৫০ টাকা।
গত মাসেও এই দাম বেড়েছিল, তবে এবারের বৃদ্ধি সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
রীতিমতো চিন্তায় স্ট্রিট ফুড ব্যবসায়ী ও রেস্তরাঁগুলি। দাম বাড়ালে কাস্টমার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তো থাকছেই। তাই সর্বোপরি সকলের এখন একটাই প্রশ্ন, হঠাৎ করে এত বাড়ল কেন গ্যাসের দাম?
মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে বিশ্বরাজনীতি
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্যিক গ্যাসের এই লাগামহীন দাম বাড়ার প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলার এবং ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড ১০৫ ডলারের উপরে ঘোরাফেরা করছে। এই দাম বাড়ার নেপথ্যে রয়েছে প্রধানত দুটি বড় কারণ-
১. হরমজ প্রণালীর সংকট: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে হরমজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই রুটটি সংকটের মুখে পড়লে বিশ্ববাজারে সরবরাহে টান পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে এলপিজি-র মূল্যে।
২. ওপেক (OPEC) ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সিদ্ধান্ত: তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন 'ওপেক' থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে তেলের উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন কেবল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ছে?
জ্বালানির বিশ্বজনীন মূল্য বাড়লেও ভারত সরকার সাধারণ গৃহস্থালি এবং খুচরো গ্রাহকদের রক্ষাকবচ দিয়েছে। পেট্রল, ডিজেল এবং গার্হস্থ্য ব্যবহারের জন্য ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমানে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ভর্তুকির বোঝা: দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশই ঘরোয়া কাজে লাগে। মধ্যবিত্তের পকেটে সরাসরি টান পড়া আটকাতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার এই দাম স্থির রেখেছে।
ভারসাম্য রক্ষা: তেল বিপণন সংস্থাগুলোর বিশাল আর্থিক ঘাটতি মেটাতে সরকার দাম বাড়ানোর জন্য বেছে নিয়েছে বাণিজ্যিক এলপিজি-কে, যা মোট ব্যবহারের মাত্র ১ শতাংশেরও কম। মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ ও ছোট শিল্প সংস্থাগুলো এই গ্যাস ব্যবহার করে।
ব্যবসায়ী ও আমজনতার ওপর প্রভাব
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে চলেছে খাদ্য ও পরিষেবা খাতে। যেহেতু রেস্তরাঁ ও রাস্তার ধারের ছোট খাবারের দোকানগুলো এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাই কাঁচামাল বা জ্বালানির খরচ বাড়লে তারা খাবারের দাম বাড়িয়ে দেবে। সাধারণ মানুষকে বাইরে খাওয়ার জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুণতে হবে।
ঘরোয়া সিলিন্ডারের ভবিষ্যৎ কী?
আপাতত সরকার ঘরোয়া গ্যাসের দাম বাড়তে না দিলেও, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া থাকলে এই স্বস্তি কতদিন বজায় থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি তেলের বাজার স্থিতিশীল না হয়, তবে আগামীতে সকলকেই অতিরিক্ত টাকা গুনতে হবে।

