কেমন আছেন রাজেশ শর্মা? বিনোদনদুনিয়া উদ্বিগ্ন তাঁকে নিয়ে। 'দ্য ওয়াল'কে অভিনেত্রী-সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জ্বর কমলেও শ্বাসকষ্ট কমেনি রাজেশের। সেই সঙ্গে রক্তে চিনির মাত্রা অনেকটাই বেশি। হাসপাতালে অভিনেতার চিকিৎসক ডা. অভিজিৎ ভট্টাচার্যের দাবি, এখনও বিপন্মুক্ত নন রাজেশ।
সুদীপাকে চিকিৎসক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সারা দিন চিকিসার পর জ্বর কমেছে রাজেশের। তবে অক্সিজেনের মাত্রা এখনও ৮৬-র উপরে ওঠেনি। ফলে, শ্বাসকষ্ট রয়েইছে। তবে মঙ্গলবার কথা জড়িয়ে গিয়েছিল অভিনেতার। আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। বুধবার সেই সমস্যা কমেছে। এ দিন তিনি কথা বলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তার পরেও রাজেশকে সঙ্কটমুক্ত বলা যাবে না। বৃহস্পতিবার ফের তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে। তার পর বলা যাবে, তিনি ভাল আছেন কিনা।
কী ভাবে ঘটল এই অঘটন? সুদীপার কথায়, 'হায়দরাবাদে রামোজি রাও ফিল্ম সিটিতে প্রভাসের সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করছিলেন রাজেশদা। প্রভাস সে দিন ছিলেন না। শুটিংয়ের পর দাদা সেটের যেখানে চা খেতে যান সেখানে ঘন জঙ্গল তৈরি করা ছিল। সেখানেই তাঁর পায়ে বিষাক্ত কিছু কামড়ায়।' পায়ে বার কয়েক চুলকানোর পর আচমকা অসুস্থ বোধ করতে থাকেন অভিনেতা। তাঁর আরও দাবি, 'প্রভাস সারা ক্ষণ আগলে রাখেন রাজেশদাকে। শট শেষ হলে নিজের সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। সে দিন প্রভাস থাকলে এরকম কিছু ঘটতই না।'
সহকারী বাবাইকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে ফিরে যান। জানান, তাঁর শরীর খারাপ লাগছে। পরের দিন সকাল সকাল কলককতার উদ্দেশে বিমান ধরেন রাজেশ। বিমানেই শুরু হয়ে যায় শ্বাসকষ্ট। দ্বিতীয় দিন সকালে অভিনেতার পরিবারের সদস্যরা দেখেন, হাঁটু থেকে পায়ের পাতায় কালো হয়ে গিয়েছে। প্রবল জ্বর, শ্বাসকষ্ট। রক্তে চিনির পরিমাণও মারাত্মক বেশি। তাঁরা ভেবেছিলেন, মশার কামড়ে ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া হয়েছে রাজেশের। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি করে নেওয়া হয় তাঁকে। সংক্রমণ যাতে না বাড়ে তার জন্য আলাদা একটি কেবিনে রাখা হয়েছে অভিনেতাকে।
রাজেশের চিকিৎসায় যাতে কোনও খামতি না থাকে তার জন্য প্রসেনজিৎ, সুদীপা, অগ্নিদেব নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন চিকিৎসকদের সঙ্গে।

