দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ জুলাইয়ের সমর্থনে বুধবার দক্ষিণ কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ যুব তৃণমূল কংগ্রেস। আদালত সেই মিছিলে অনুমতি দিলেও, মিছিলের সময় পুলিশের ভূমিকা এবং বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে সরব হলেন তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক উপায়ে মিছিল করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
এই মিছিল বারুইপুরের গণধর্ষণের প্রতিবাদেও হচ্ছে বলে জানান তিনি
কী বললেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়?
এদিন মিছিলের প্রস্তুতির সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৈশ্বানর বলেন, "আমাদের আজ একটা প্রতিবাদী মিছিল ছিল। বারুইপুরের গণধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা আদালতের কাছ থেকে মিছিলের অনুমতি পেয়েছি। তা সত্ত্বেও দেখছি, বিভিন্ন জায়গায় মাইক লাগানো হয়েছে এবং বিজেপি কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছে। একে কি গণতন্ত্র বলা যায়?"
পুলিশ প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি আরও বলেন, "পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলছে, কারা মাইক লাগিয়েছে তা নাকি তারা জানে না! এমনকি মিছিলের অনুমতি আছে কি না, সেটাও নাকি তারা জানে না! পুলিশ প্রশাসন আজ সবটাই বিজেপির হাতে। মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।"
বৈশ্বানর আরও বলেন, "রাজ্যে এনকাউন্টার হচ্ছে, মানুষকে খুন করা হচ্ছে—তখন বিজেপি চুপ। অথচ গণধর্ষণের মতো ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করতে নামলে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। মানুষের কাছে আমার আবেদন, আমাদের কর্মীরা যথেষ্ট সংযত রয়েছেন। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।"
মিছিলের প্রেক্ষাপট ও আদালতের নির্দেশ
বুধবার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিল যুব তৃণমূল। প্রথমে ট্রাফিকের দোহাই দিয়ে কলকাতা পুলিশ অনুমতি না দিলেও, মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ কড়া শর্তসাপেক্ষে সেই অনুমতি দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, "গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অধিকারের দাবিতে আন্দোলনের অধিকার দেশের প্রতিটি মানুষের রয়েছে। আদালত সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।"
আদালতের বেঁধে দেওয়া শর্তাবলী
আদালত জানিয়ে দেয় মিছিল হবে দুপুর আড়াইটে থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত। এই মিছিলে সর্বোচ্চ এক হাজার জন উপস্থিত থাকতে পারবেন এবং শুধুমাত্র হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও আদালত জানায়, রাস্তার এক ধার দিয়ে মিছিল নিয়ে যেতে হবে এবং কোনওরকম প্ররোচনামূলক বা উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা যাবে না।
আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও মিছিলের শুরুর আগেই যেভাবে বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে বাধার অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এখন দেখার, পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

