ছোটবেলা থেকেই উত্তম কুমারের নাম শুনে বড় হয়েছি। উত্তম-সুচিত্রার ছবি দেখেই আমার বেড়ে ওঠা। তখন পর্দায় উত্তম কুমার মানেই অন্যরকম এক আকর্ষণ। তিনি যখন অভিনয় করতেন, তখন যেমন তাঁর প্রতিটি ছবি হাউসফুল হত, তাঁর মৃত্যুর পরেও সেই ভালবাসায় কোনও ভাটা পড়েনি। আজও তাঁর ছবি দেখতে মানুষ প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন।
উত্তম কুমারকে আমি আলাদা করে দেখি
মাত্র চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই আমি অভিনয় করছি। এই দীর্ঘ পথ চলায় বহু বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীকে কাছ থেকে দেখেছি। শিশির ভাদুড়ি থেকে ছবি বিশ্বাস, কমল মিত্র— আরও কত নাম বলা যায়! প্রত্যেকেই ছিলেন অসাধারণ শিল্পী। কিন্তু একটা জায়গায় এসে উত্তম কুমারকে আমি আলাদা করে দেখি।
মানুষের প্রতি তাঁর যে দরদ, সেটা আমি অন্য কারও মধ্যে সেভাবে দেখিনি। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সাফল্যের জায়গায় দাঁড়িয়েও তিনি অন্যদের কথা ভাবতেন। বিশেষ করে টেকনিশিয়ানদের কোনও অসুবিধা হলে তিনি পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের জন্য কাজ করেছেন। শুধু নিজের কথা ভাবেননি, ভেবেছেন গোটা শিল্পীসমাজের কথা।
উত্তম কুমার যে 'শিল্পী সংসদ' তৈরি করে গিয়েছেন, সেটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, তাঁদের প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য এমন একটি সংগঠন তৈরি করে যাওয়া নিঃসন্দেহে বিরাট কাজ। এর আগে ছবি বিশ্বাস, জহর গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও এমন কিছু করার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। উত্তম কুমার সেই কাজ করে দেখিয়েছিলেন।
আজ এত বছর পরেও 'শিল্পী সংসদ' রয়েছে। শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর সেই ভাবনাটাও রয়ে গিয়েছে। আর শুধু সংগঠন নয়, উত্তম কুমারের নিজের জনপ্রিয়তাও আজও অটুট। তাঁর ছবি এখনও হাউসফুল হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করে।
তাই উত্তম কুমার আপনাদের কাছে মৃত হলেও, আমার কাছে তিনি জীবিত। তাঁর অভিনয়ে, তাঁর কাজের মধ্যে, মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসায় এবং শিল্পীদের জন্য রেখে যাওয়া তাঁর সেই দায়িত্ববোধে— উত্তম কুমার আজও বেঁচে আছেন।

