দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যালেন্ডার বলছে এখনও জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি। দক্ষিণবঙ্গে যখন আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গের জন্য আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি শুরু করে দিল রাজ্য প্রশাসন। লক্ষ্য একটাই, আসন্ন বর্ষায় পাহাড়ে ধস বা হড়পা বানের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখে দেওয়া এবং মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করা।
গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার অনেক আগেভাগে কোমর বাঁধছে নবান্ন।
অতীতের ক্ষত ও শিক্ষা
গত বছরের (২০২৫) অক্টোবর মাসের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও উত্তরবঙ্গবাসীর মনে টাটকা। টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণে সিকিম ও দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত বানভাসি রূপ নিয়েছিল। একের পর এক পাহাড়ি এলাকায় নামা ধসে তছনছ হয়ে গিয়েছিল জনজীবন। তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে পড়েছিল দুধিয়া ও বিজনবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সিকিমের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। সেই বিপর্যয় কেড়ে নিয়েছিল ১৪টি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে মিরিক ও সুখিয়া পোখরির পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে করুণ। অতীতের সেই বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে, তার জন্যই এবার বর্ষা নামার আগেই ময়দানে নামছে প্রশাসন।
নবান্নের আগাম রণকৌশল
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এবার বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং সহ ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ব্লক ও জেলা স্তরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এখন থেকেই।
পাহাড়ে বর্ষাকালীন প্রস্তুতির মূল রূপরেখা
পাহাড়ে বর্ষার আগে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা। জাতীয় সড়ক ও পাহাড়ি রাস্তার যেসব জায়গায় ধস নামার প্রবণতা বেশি, সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখা জরুরি যাতে ধস নামলে দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করা যায়। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ, যোগাযোগ সচল রাখা। উত্তরবঙ্গে, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সহ পাহাড়ের মূল সংযোগকারী রাস্তাগুলির সুরক্ষিত রাকাহা জরুরি পর্যটক এবং স্থানিয় মানুষের নিরাপত্তার জন্য।
এছাড়াও প্রয়োজন হয় নজরদারি ও উদ্ধারকাজের ব্লু-প্রিন্ট। বিভিন্ন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীগুলিকে (NDRF/SDRF) আগে থেকেই সতর্ক করে রাখা হলে, দুর্গম এলাকাগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী ও ওষুধ মজুত করার কাজও গুরুত্বপূর্ণ।
গত বছরের বিপর্যয়ে ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি রাজ্য প্রশাসনকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় কখন কী বিপর্যয় নেমে আসবে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। তাই এবার কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে, বর্ষার মেঘ আকাশে ঘনিয়ে আসার আগেই পাহাড়কে সুরক্ষিত করতে আগাম ঢাল তৈরি করছে নবান্ন।

