দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরমুজ প্রণালীর 'প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' এখন আমেরিকার হাতে। ইরানের অর্থনীতিও কার্যত ধ্বংসের মুখে। তেহরানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিতে যাওয়ার বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা নেই ওয়াশিংটনের। মঙ্গলবার মার্কিন বিমানহানার পর এভাবেই সুর চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)।
ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এবার সেদেশের সাধারণ মানুষকে সরাসরি রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিলেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঙ্কার ও জল্পনা খারিজ
নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) দীর্ঘ পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে এবিসি নিউজের একটি রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে জল্পনা ছিল, প্রবল সামরিক চাপ তৈরি করে ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে বসাতে চাইছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া, 'এবিসি ফেক নিউজ যা রিপোর্ট করেছে, আমি ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার চেষ্টা করছি না। ওরা ওদের কাছে মূল্যহীন কোনও চুক্তিতে সই করল কি না, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।'
ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি আমেরিকার পকেটে। ইরানের অর্থনীতিও 'পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে' (US Iran Conflict)। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, 'ওরা স্রেফ অনিবার্য পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।' একইসঙ্গে তেহরান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের ডাক। তিনি লেখেন, 'ইরানের মানুষ কবে রুখে দাঁড়াবে এবং লড়াই করবে?'
লাগাতার বিমানহানা ও পাল্টা প্রত্যাঘাত
মঙ্গলবার ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত ঠিকানায় নতুন করে ব্যাপক বিমানহানা চালিয়েছে আমেরিকা। তবে ছেড়ে কথা বলেনি তেহরানও। জর্ডন, বাহরিন এবং ইরাকে থাকা একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদের উপর রীতিমতো প্রত্যাঘাত হেনেছে তারা (US Airstrikes)। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এক চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সেনার হাতে। তেহরান অবশ্য আমেরিকার এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই কৌশলগত জলপথের দখল এখনও ইরানেরই হাতে রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহের রুট ঘিরে স্নায়ুযুদ্ধ
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট এই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। কৌশলগত কারণে ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র চরম হুঁশিয়ারি, মার্কিন হামলা এই জলপথের 'তালা আরও মজবুত করবে'। ইরানি আধিকারিকদের মতে, উপসাগরীয় এলাকা দিয়ে তেহরানকে তেল রফতানি করতে বাধা দেওয়া হলে, অন্য কোনও দেশকেও সেই সুযোগ দেওয়া হবে না (Middle East Crisis)।
যুদ্ধবিরতির ন্যূনতম সম্ভাবনা খারিজ
গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক চুক্তি হলেও তা দ্রুত ভেস্তে যায়। মূলত হরমুজ প্রণালীর দখল নিয়েই মূল বিরোধ শুরু হয়। এই আবহে নতুন করে কোনও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেহরানের সঙ্গে চুক্তি 'যে কাগজে লেখা হয়, তারও যোগ্য নয়'। ইরানকে ইতিমধ্যেই শোধরানোর যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি যে আরও ঘোরালো হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

