দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং তার জেরে লাগাতার মানসিক চাপের বলি হলেন ৩৬ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। হায়দরাবাদের হুসেন সাগরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করলেন এস সীতারাম রেড্ডি। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী রেণুকা এবং তাঁর প্রেমিক এম রমানা রেড্ডিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সীতারাম ও রেণুকার বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালে। তাঁদের পাঁচ ও সাত বছরের দুই সন্তান রয়েছে। সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে রেণুকার সঙ্গে ব্যবসায়ী রমানা রেড্ডির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হতেই দম্পতির মধ্যে শুরু হয় তীব্র বিবাদ।
তদন্তে উঠে এসেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রেণুকা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সীতারাম তাঁর স্ত্রীর নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে গত কয়েক মাস ধরে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন এই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। সেই যন্ত্রণাই আর সহ্য করতে পারেননি।
৯ ফেব্রুয়ারি হুসেন সাগর হ্রদ থেকে সীতারামের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সীতারামের বাবা ভেঙ্কটেশ্বর অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলে কেবল পরকীয়ার কারণেই ভেঙে পড়েননি, বরং এর সঙ্গে যুক্ত আরও কিছু ঘটনা তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভেঙ্কটেশ্বরের দাবি, রেণুকা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সীতারামকে পাঠানো হয়েছিল। ওই ভিডিও দেখার পর সীতারাম মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
প্রাথমিকভাবে একটি 'জিরো এফআইআর' (Zero FIR) দায়ের হলেও পরে মামলাটি বিস্তারিত তদন্তের জন্য বাচুপল্লী থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি রেণুকাকেই 'আত্মহত্যায় প্ররোচনা' দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২১ এপ্রিল রেণুকা এবং তাঁর প্রেমিক রমানা রেড্ডিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তাঁরা বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
এক হাসিখুশি পরিবারের এমন করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই নাবালক সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

