দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটযুদ্ধের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপ এখন তুঙ্গে। ইলেকশন অবর্জাভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta) ওই কেন্দ্রের অন্তত ৩০টি বুথে নতুন করে ভোট নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। স্ক্রুটিনি বা বিশদ পর্যালোচনার পর যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কমিশনের অন্দরে।
ফলতার পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবারের ৪টি এবং মগরহাট পশ্চিমের ১১টি বুথেও পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর কারচুপির প্রমাণ মিলেছে। সবথেকে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বুথের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে। অভিযোগ, ভোট চলাকালীন একাধিক বুথে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। নেটওয়ার্কের ত্রুটির অজুহাতে সেই সময় কন্ট্রোল রুমে কোনও দৃশ্য পৌঁছয়নি। এছাড়া আরও একটি নজিরবিহীন ঘটনা সামনে এসেছে - ইভিএম যন্ত্রে সেলোটেপ লাগিয়ে বিরোধীদের প্রতীক ঢেকে দেওয়া।
অভিযোগ, ফলতার বেশ কিছু বুথে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে শাসক দল বাদে বাকি সব চিহ্নের ওপর টেপ সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। দুপুরের দিকে প্রিসাইডিং অফিসার সেই টেপ সরানোর দাবি করলেও, ততক্ষণে ওই বুথগুলিতে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।
কমিশন মনে করছে, বেলা একটা পর্যন্ত ভোটারদের সামনে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার সুযোগই ছিল না। ফলে সেই সব বুথের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছিল। সুব্রত গুপ্ত এই কেন্দ্রগুলিতেই কড়া নজরদারি চালিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ফলতায় মোট ২৮৫টি বুথ রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নথিতে দেখা যাচ্ছে, যা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই বিরোধীরা সরব হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে নতুন করে ভোটের দাবি জানিয়েছিল বিজেপি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে তিনটিই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা এলাকার অন্তর্গত। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং সুব্রত গুপ্তকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি সোমবার থেকেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে জোড়াফুল শিবির। পাল্টা অজয়পালের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল। তবে ১৭০ এবং ১৮৯ নম্বর বুথের ইভিএমে কারচুপি এবং ক্যামেরা বন্ধ থাকার ঘটনা এখন কমিশনের কাছে প্রধান মাথাব্যথার কারণ।
এর আগে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৪টি বুথে নতুন করে ভোটগ্রহণের সুপারিশ করেন ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার (RO)। বৃহস্পতিবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছিলেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)। তাই এখন শুধু ডায়মন্ড হারবার নয়, ফলতা এবং মগরাহাট পশ্চিমের বেশ কিছু বুথ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের টেবিলে।

