দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর সমালোচনা নতুন নয়। কিন্তু এবার সরাসরি আক্রমণ। তাও কিনা বেশ ঝাঁঝালো। চর্চার কেন্দ্রে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya)। তাঁকে 'প্লাস্টিক ক্যাপ্টেন' বলে দেগে দিলেন প্রাক্তন ভারতীয় নির্বাচক কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত (Krishnamachari Srikkanth)।
চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে তাঁর মনোভাব ও পরিকল্পনা নিয়ে তুললেন একগুচ্ছ বড় প্রশ্ন।
২৩ বলে ১৮, মাঝের ওভারে থমকে যায় ইনিংস
হার্দিক গতরাতে নামেন ছ'নম্বরে। তখন মুম্বইয়ের স্কোর ১০৯/৪। ক্রিজে সেট ব্যাটার নমন ধীর (IPL 2026)। পরিস্থিতি দাবি করছিল গতি বাড়ানোর। কিন্তু বাস্তবে উল্টো ছবি। ২৩ বলে মাত্র ১৮ রান তুলে ডাগ আউটে ফিরলেন হার্দিক। পুরো ইনিংসে মাত্র দু'খানা বাউন্ডারি। ১০টি ডট বল (Cricket News Bangla)। ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জেরে ১২.৫ ওভারে ১০৯/৪ থেকে শেষ পর্যন্ত মুম্বই থামে ১৫৯/৭-এ। এই সময়টুকু ম্যাচের মোড় ঘোরানোর পক্ষে যথষ্ট। সেখানে গতি হারায় মুম্বই। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে লড়াই জিতে নেয় চেন্নাই (Mumbai Indians)।
'এটা কী ইনিংস? পরিকল্পনা কোথায়?'
শ্রীকান্ত সরাসরি বলেন, '১৮ রান ২৩ বলে—এটা কী? ও প্লাস্টিক ক্যাপ্টেন।' সুর চড়িয়ে যোগ করেন, 'ওই পার্টনারশিপে উদ্দেশ্য কোথায়? কী করতে চাইছিল হার্দিক? মিডল ওভারে এত ডট বল—এটা স্পষ্ট, কোনও হিসেব বা ম্যাচ সচেতনতা ছিল না!' বক্তব্যের স্বপক্ষে ওভার-ভিত্তিক রানরেটও তুলে ধরেন শ্রীকান্ত (Sports News Bangla)। বলেন, '৬-৭ ওভারের পর ৯ রান করে শুরু। তারপর ৭, ৭, একবার ১৩, তারপর আবার ১০, ৬… এরপর ৫, ৪, ৩। ১২ থেকে ১৬ ওভারের মধ্যে ম্যাচ পুরো হাতছাড়া হয়ে যায়!' শেষ দিকেও গতি ফেরেনি (Cricket Updates)।
প্রতিপক্ষের কৌশল স্পষ্ট
এই ম্যাচে চেন্নাইয়ের পরিকল্পনাও নজরে পড়েছে (Chennai Super Kings)। শ্রীকান্তের মতে, হার্দিককে আটকে দেওয়ার রাস্তা এখন পরিষ্কার। তাঁর মন্তব্য, 'এখন আর কেউ ওকে লেন্থ বল দেবে না। সবাই শরীর লক্ষ্য করে বল করবে। জানে, লেন্থে বল পড়লে ও মারবে। তাই ওই জায়গায় করবে না।' কাল রাতে জেমি ওভারটনের মতো বোলাররা শরীর টার্গেট করে বল করে হার্দিককে চাপে রেখেছেন (T20 Cricket)। ফলে শট খেলার জায়গা তৈরি হয়নি।
ফর্ম ও স্ট্রাইক রেট নিয়ে বাড়ছে চাপ
চলতি মরশুমে হার্দিকের স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৪৫। একজন মিডল অর্ডার পাওয়ার হিটারের পক্ষে যা মোটেও মানানসই নয় (IPL Updates)। পাশাপাশি মুম্বইয়ের ব্যাটিং ইউনিটেও ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট হচ্ছে। মাঝের ওভারে গতি ধরে রাখতে পারছে না দল।
পরের ম্যাচ লখনউয়ের বিরুদ্ধে (LSG vs MI)। এই পারফরম্যান্সের পর অধিনায়কের উপর চাপ আরও বাড়ল। প্রশ্ন—সমালোচনার জবাব কি আদৌ ব্যাট হাতে দিতে পারবেন হার্দিক?

