দ্য ওয়াল ব্যুরো: না কোনও সিনেমার প্লট নয়। কারও মনগড়া গল্পও নয়। বাস্তব এবং আরব দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের প্রায় রোজকার অভিজ্ঞতা। এক্ষেত্রে হামলাকারী আমেরিকা। যেকোনও মুহূর্তে এই ভূমিকা অর্থাৎ হামলাকারীর নাম বদলে যেতে পারে। কারণ আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চলছে বহুদিন ধরে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বাড়িতে মঙ্গলবার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।
কেউ হয়তো ভাত মেখে সবে খেতে যাবে, কেউ হয়তো নতুন বৌয়ের হাতে গিফটের বাক্স তুলে দিয়েছে, বাচ্চারা খেলছে আনন্দে। ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে আছড়ে পড়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি শিশুও। হামলায় আহত হয়েছেন ৫০-এর বেশি মানুষ।
রেড ক্রিসেন্টের দাবি, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায় একটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সেই সময় সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছিটকে আসা ধাতব টুকরো বা শার্পনেলের আঘাতেই হতাহতদের অধিকাংশের মৃত্যু ও আঘাত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ নাফিসি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছিলেন, হামলায় দু'জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েক জন আহত। পরে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ হয়। রেড ক্রিসেন্টের তরফে প্রথমে চার জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল, যাঁদের মধ্যে একটি শিশু ছিল।
হামলার পরের কিছু ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে। পুরো লন্ডভন্ড এলাকা, চিৎকার করতে করতে মানুষ চারিদিকে দিশাহীন ভাবে ছুটছে।
সিরিক কাউন্টি কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ এই প্রণালী বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। হামলার সময়ে মার্কিন বাহিনী ঠিক কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে চেয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
'হামলা যুদ্ধাপরাধ', বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হরমোজগানের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর। হামলার পরেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়।
এনিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের কথিত হামলার জবাবেই নতুন করে অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরান সমুদ্রপথে মাইন পাতা এবং জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার চেষ্টা করেছে। পাল্টা হামলা হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের মুখপাত্র সারদার হোসেন মোহেবি আমেরিকার এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার জন্য আমেরিকাকে 'অনুতপ্ত' হতে হবে।

