দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যস্থতায় নেমেছে পাকিস্তান (Pakistan mediation Iran US)। তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে আলোচনার নতুন প্রস্তাব। কিন্তু তাতেও বরফ গলার লক্ষণ নেই। ইরানের নতুন 'অফার' নিয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), 'আমি এতে সন্তুষ্ট নই।'
তাঁর দাবি, ইরান এমন কিছু আবদার করছে যা মেনে নেওয়া আমেরিকার পক্ষে সম্ভব নয় (Trump on Iran proposal)।
হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা।
কী চাইলেন ট্রাম্প, কী বলছে ইরান?
ট্রাম্পের স্পষ্ট কথা, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব 'অসংলগ্ন' এবং তাঁরা বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত।
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি তাদের 'হুমকির রাজনীতি' এবং 'উস্কানিমূলক আচরণ' বন্ধ করে, তবেই আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। টেলিগ্রামে একটি পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, দেশের সেনাবাহিনী যে কোনও হামলা রুখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নজরে পাকিস্তানের ভূমিকা
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে পাকিস্তান। ফোনে দুই দেশের মধ্যে দৌত্য চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের এই প্রচেষ্টাকে ট্রাম্প দরাজ সার্টিফিকেট দিলেও আসল লক্ষ্য অর্জন নিয়ে তিনি সন্দিহান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, 'ওরা অনেকটা এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে কি না জানি না। ইরান এমন সব ছাড় চাইছে, যা আমি দিতে পারি না।'
তেল বাজারে অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের রেশ আছড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। সংঘাতের জেরে এই পথ রুদ্ধ হওয়ায় ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। ট্রাম্পের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ করার জন্য, যার ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের হুঁশিয়ারি না কি শান্তি?
আলোচনা না কি ধ্বংস? ট্রাম্পের উত্তর ছিল চিরাচরিত ভঙ্গিতেই। তিনি বলেন, 'আমাদের সামনে দুটো রাস্তা। এক, ওদের ওপর চরম আঘাত হেনে চিরতরে শেষ করে দেওয়া। আর দুই, আলোচনার মাধ্যমে রফায় আসা। মানবিকতার খাতিরে আমি দ্বিতীয় পথটাই পছন্দ করি।'
তবে পরিস্থিতির জল যে খুব একটা থিতিয়ে নেই, তার প্রমাণ মিলছে ভূ-স্তরে। একদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের তেল রফতানি আটকে দিয়েছে, অন্যদিকে ইরানও তাদের আকাশপথের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। যে কোনও মুহূর্তে আমেরিকার 'সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র' হামলার আশঙ্কায় প্রহর গুনছে তেহরান। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই অনড় অবস্থান আর বিশ্ব বাজারের আকাশছোঁয়া তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

