দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে টালিগঞ্জে তাঁর মূর্তিতে মালা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, রত্না ঘোষাল, প্রবীন পরিচালক গৌতম ঘোষ, প্রসেঞ্জিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, জিৎ-সহ অন্যান্যরা।
উপস্থিত ছিলেন টলিউডের সঙ্গে যুক্ত বর্তমানের বিধায়করাও। এদিন প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর মাল্যদানের কথা থাকলেও তিনি রঞ্জিত মল্লিককে জায়গা করে দেন এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ অভিনেতা হওয়ার সুবাদে প্রথমে মাল্যদান করার আবেদন করেন। সেই মতো প্রথমে নিজের সহকর্মী, বাংলার মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান রঞ্জিত মল্লিক।
মহানায়কের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে টালিগঞ্জের বিভিন্ন স্টুডিওতে। তাই শতবর্ষ উপলক্ষ্যে টালিগঞ্জেই আয়োজন করা হয়েছিল একটি ছোট অনুষ্ঠানের। সেখানে সকলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যুজুড়ে উত্তমকুমার নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম মঞ্চকে ঢেলে সাজানো থেকে পদযাত্রা, বছরজুড়ে অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেন।
বলেন, 'আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব রঞ্জিত মল্লিককে। প্রথা অনুযায়ী আমাকে বলা হয়েছিল মালা দিতে কিন্তু আমার মনে হয় ওঁর হাত দিয়েই সূচনা হওয়া উচিত।' এরপর সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এমন একটা বিশেষ বছরে তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য জনসাধারণকে কৃতজ্ঞতা জানান। তোলেন প্রধানমন্ত্রীর কথা।
মন কি বাত-এ মহানায়কের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সকাল সকাল মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর এই কাজে অভিভূত মুখ্যমন্ত্রী এদিন তোলেন সেই কথা। জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁরও আগে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ফলে মহানায়কের ব্যপ্তি রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ এমনি পৃথিবীর সর্বত্র। বলেন, 'মহানায়ক সম্পর্কে আমি পোস্ট করার আগে, একদম সকালে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। অর্থাৎ গোটা দেশ আজকের জন্য গর্বিত। সমস্ত বাঙালি গর্বিত।'
কর্মসূচি প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আমরা যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে গুরুত্ব দিয়েছি, মহানায়কের ক্ষেত্রেও তাই । আগামিকাল উত্তমকুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তার ভূমি পুজো আছে, আমরা অনুষ্ঠান করব। অনেকগুলো প্রোগ্রাম নিয়েছি, তার মধ্যে চারদিন ব্যাপী প্রোগ্রাম আছে। পদযাত্রা, কেক কাটা, পায়েস খাওয়া হবে।'
এছাড়া কলাকুশলীরা একটা তালিকা করে দিয়েছেন, তাঁদের সম্মান জানানোর কথা উল্লেখ করেন। উত্তমমঞ্চকে ঢেলে সাজানোর প্রসঙ্গও তোলেন। রাজ্যের পাশাপাশি উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষিকী নিয়ে নানা পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। জানা যায়, ভারত সরকার তাঁর ছবি দিয়ে কয়েন ও ডাক টিকিট প্রকাশ করছে শীঘ্রই।
সবশেষে পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিয়ে উত্তমকুমারের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের বদলে জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।

