Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে অভিষেককে নোটিস ধরাল সিআইডি, সোমবার বেলা ১২টায় ভবানী ভবনে তলব

কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে অভিষেককে নোটিস ধরাল সিআইডি, সোমবার বেলা ১২টায় ভবানী ভবনে তলব

THE WALL 1 week ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছর ধরে তিনি কোথায় থাকেন, তা নাকি সিআইডি জানেই না! শনিবার দুপুরে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িকে কেন্দ্র করে নাটক তুঙ্গে উঠল। প্রথমে হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি 'শান্তিনিকেতন', তারপর সেখান থেকে সোজা কালীঘাট, নোটিস হাতে হন্যে হয়ে ঘুরলেন সিআইডি আধিকারিকেরা।

শেষমেশ কালীঘাটের বাড়ির বাইরে এসে নিজের হাতে সেই নোটিস রিসিভ করলেন অভিষেক। আর নোটিস হাতে নিয়েই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সুর চড়ালেন তৃণমূলের শিবিরের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড। জানা গিয়েছে সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে অভিষেককে তলব করেছে সিআইডি।

শনিবার দুপুরের এই হাইভোল্টেজ ড্রামার সূত্রপাত হরিশ মুখার্জি রোড থেকে। একটি মামলার নোটিস দিতে দুপুরে অভিষেকের 'শান্তিনিকেতন' বাড়িতে পৌঁছায় সিআইডি-র একটি টিম। কিন্তু সেখানে অভিষেক ছিলেন না। তিনি তখন ছিলেন কুণাল ঘোষের বাড়িতে, বেলেঘাটায় ভোটপরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। পরে সেখান থেকে সরাসরি কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

'ওদেরও তো চাকরি করতে হয়, তাই সই করে দিলাম'

কালীঘাটে পৌঁছে সিআইডির এই 'বাড়ি বাড়ি' ঘোরা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন অভিষেক। সাফ জানিয়ে দেন, তিনি 'শান্তিনিকেতনে' থাকেন না। সিআইডিকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হলে কালীঘাটের ঠিকানাতেই আসতে হবে। যেই কথা সেই কাজ! কিছুক্ষণের মধ্যেই সিআইডি টিম পৌঁছে যায় কালীঘাটে। বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এক আধিকারিক জানান, তাঁরা নোটিসটি সরাসরি অভিষেকের হাতেই দিতে চান। অভিষেকও তাঁদের অপেক্ষা করতে বলেন এবং পরে নিজেই নিচে নেমে এসে সই করে নোটিসটি গ্রহণ করেন।

নোটিস নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, 'ওরা জানে না আমি সাত বছর ধরে কোথায় থাকি? ওদেরও তো চাকরি করতে হয়। অনেকক্ষণ ধরে বেচারা অফিসাররা অপেক্ষা করছিলেন, তাই নোটিসটা নিয়ে ওদের ছেড়ে দিলাম। এখনও নোটিসটা পড়ে দেখিনি, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব, আইনি সহায়তা নেব।'

'আমাকে ধমকে মাথা নত করানো যাবে না'

এরপরই কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। নাম না করে বিজেপি তথা রাজ্যের বর্তমান শাসক দলকে নিশানা করে তিনি বলেন, "আমার লুকোনোর কিছু নেই। এর আগেও যখন ইডি বা সিবিআই ডেকেছে, আমি ১০-১২ বার নিজে গিয়ে তদন্তে সাহায্য করেছি। আমি কোনওদিন পালিয়ে যাইনি।"

একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তাঁর হুঁশিয়ারি, "নিজেদের স্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, ক্ষমতার অপব্যবহার যারা করে, তারা ক্ষমতায় বেশিদিন টেকে না। আমাদের দলের কর্মীদের ধমকানো-চমকানো হচ্ছে আর পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। তবে আমাকে এভাবে ধমকে মাথা নত করানো যাবে না। আমি লড়াইয়ের ময়দান থেকে এক ইঞ্চিও সরব না।"

এখানেই শেষ নয়, তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক আরও বলেন, "এখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে টিভির পর্দায় সরাসরি ঘুষ নিতে দেখা গেছে। আর এরা আমাদের চোর বলে!"

শনিবারের এই টানটান ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। সিআইডি নোটিশের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি পথে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall