দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে নামলে অন্য মানুষ। (IPL 2026) বিশ্বের তাবড় বোলারদের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় ব্যাট চালান। (Vaibhav Suryavanshi) ছক্কা মারেন, রেকর্ড ভাঙেন, একা হাতে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। (Rajasthan Royals) কিন্তু মাঠের বাইরে? (Cricket News Bangla) সেখানে তিনি এখনও নিখাদ ১৫ বছরের কিশোর।
(Sports Updates Bangla) বোঝা যায় আগ্রহে, অনুরাগে। আর তাই বৈভব সূর্যবংশীর সবচেয়ে প্রিয় অবসরযাপন কার্টুন দেখা। প্যাট কামিন্স, জসপ্রীত বুমরাহ বা জশ হেজলউডকে আক্রমণ শানানো ছেলেটাই দিনের শেষে নিজের ঘরে বসে কার্টুন দেখে মন শান্ত করেন। আইপিএলের চলতি মরসুমে তাঁর ব্যাটিং নিয়ে যত আলোচনা, সেই তুলনায় এই তথ্য সবচেয়ে অবাক করার মতো।
মাঠে আগুন, ঘরে কার্টুন
জিওস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈভব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই কার্টুন তাঁর খুব প্রিয়। তাঁর কথায়, 'দুই-তিন বছর আগে যখন বাড়িতে থাকতাম, ম্যাচ খেলতাম বা অনুশীলন করতাম, তখন ফাঁকা সময় পেলেই কার্টুন দেখতাম। খুব ভাল লাগত!' সেই অভ্যাস এখনও বদলায়নি। বৈভব বলেন, 'এখনও যখন মনে হয় একটু শান্তি দরকার বা একটু রিল্যাক্স করতে হবে, তখন কার্টুন দেখি। নিজের ঘরে আরাম করে বসে যেটা ভাল লাগে সেটা দেখি। খুব ভাল লাগে। বাড়ির কথাও মনে পড়ে।'
বিশ্বক্রিকেটের আলোচনায়
এই সিজনে বৈভবকে নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে সহজেই বদলে যেতে পারত অনেক কিছু। অরেঞ্জ ক্যাপ তাঁর মাথায়। ৬০০-র বেশি রান ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। জাতীয় দলে দ্রুত সুযোগ দেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে। কিন্তু বৈভবের কথাবার্তায় সেই চাপের ছাপ নেই। বরং, বোঝা যায়, ক্রিকেটের বাইরেও তিনি নিজের স্বাভাবিক জীবনটাকে ধরে রাখতে আগ্রহী। হয়তো সেই কারণেই মাঠে এত নির্ভার দেখায় তাঁকে। কারণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার পরও নিজের ভেতরের কৈশোরত্বকে হারিয়ে ফেলেননি।
১ কোটির ফোনকল
সাক্ষাৎকারে রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে তাঁর প্রথম যোগাযোগের গল্পও শুনিয়েছেন বৈভব। বলেছেন, 'প্রথম ফোনটা এসেছিল টিম ম্যানেজার রোমি ভিন্দর স্যরের কাছ থেকে। আমি তখন দুবাইয়ে ছিলাম। নিলামও সেখানেই হচ্ছিল। ট্রায়ালের পরে আশ্বাস দেন, আমাকে নেওয়ার চেষ্টা চালাবেন। পরে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। দুই-তিন মিনিট কথা হয়েছিল।'এরপরই আইপিএলে বৈভবের যাত্রা শুরু। জল্পনা সত্যি করে রাজস্থান তাঁকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায় দলে নেয়।
শুরুটা যেমন, এখনও তেমনই
অভিষেক ম্যাচের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন বৈভব। তিনি বলেন, 'প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছিলাম। সেটা খুব বিশেষ একটা মুহূর্ত ছিল। তারপর একই মরসুমে শতরানও করি। যা পরিবার এবং আমার কাছে খুব গর্বের ব্যাপার!' যোগ করেন, 'ওটা ছিল আইপিএলের মাত্র তৃতীয় ম্যাচ। এত ভাল শুরুর সেই গতিটাই এখন ধরে রাখার চেষ্টা করছি।'
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংস খেলার পর আজ তাঁর সামনে গুজরাত টাইটান্স। মাঠে ফের একবার বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতে পারেন বৈভব। তবে ম্যাচ শেষে যদি তাঁকে কার্টুন দেখতে দেখা যায়, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। নরমে-গরমে এভাবেই ক্রিকেটের নতুন বিস্ময় হয়ে উঠছেন এক কিশোর।

