Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
কেরলে স্কুলছাত্রীদের জন্য মাসে ৩ দিনের 'পিরিয়ড লিভে'র পরিকল্পনা! বদলে শনি-রবিতে থাকবে বিশেষ ক্লাস

কেরলে স্কুলছাত্রীদের জন্য মাসে ৩ দিনের 'পিরিয়ড লিভে'র পরিকল্পনা! বদলে শনি-রবিতে থাকবে বিশেষ ক্লাস

THE WALL 2 weeks ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের মধ্যে শিক্ষা এবং প্রগতিশীল চিন্তাভাবনায় সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকে কেরল। এবার সেই ধারা বজায় রেখেই স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের জন্য এক যুগান্তকারী ও সংবেদনশীল পদক্ষেপ করতে চলেছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্য (Kerala government women friendly initiatives)। স্কুলছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক ধকলের কথা মাথায় রেখে মাসে সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত পিরিয়ডের জন্য ছুটি বা মেনস্ট্রুয়াল লিভ (Menstrual Leave) দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেরল সরকার (Kerala 3 day menstrual leave for schoolgirls)।

তবে এই ছুটির কারণে ছাত্রীদের পড়াশোনায় যাতে কোনও খামতি বা ক্ষতি না হয়, তার জন্য সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনি ও রবিবার বিশেষ 'ক্যাচ-আপ' (Catch-up classes) বা ক্ষতিপূরণ ক্লাসেরও ব্যবস্থা করা হবে।

কেরলের নতুন ইউডিএফ (UDF) সরকারের নীতি নির্ধারণী ভাষণে এই কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই নারী ও শিশুবান্ধব কর্মপরিকল্পনার খতিয়ান পেশ করেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর। সরকারের এই দূরদর্শী ভাবনাকে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে স্বাগত জানাতে শুরু করেছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা।

বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের সূচনায় রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে জানান, রাজ্যের মেয়েদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা অত্যন্ত গভীর। আর সেই লক্ষ্যেই তাঁরা 'প্রজেক্ট মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি' বা 'ঋতুস্রাব মর্যাদা প্রকল্প' চালু করতে চলেছেন (monthly period leave for Kerala women and school girls)। এই বিশেষ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পাবলিক প্লেসগুলিকে মেয়ে ও মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ স্বস্তিদায়ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলা।

রাজ্যপাল বলেন, "আমার সরকার স্কুলছাত্রীদের জন্য মাসে তিন দিন পর্যন্ত ঋতুস্রাবকালীন ছুটির কথা ভাবছে। একই সঙ্গে সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে ছুটির কারণে ছাত্রীরা পড়াশোনায় কোনওভাবেই পিছিয়ে না পড়ে।" এর পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত বড় শহরগুলিতে মহিলাদের জন্য উন্নত ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক রেস্টরুম বা শৌচাগার তৈরি করা হবে। নারী সুরক্ষার স্বার্থে স্যানিটারি ন্যাপকিন, জুতো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যাতে মহিলারা সহজে ও সুলভে পান, তার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।

কেবল স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীরাই নয়, কর্মরতা মহিলাদের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করতেও একগুচ্ছ কঠোর আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে সতীসান সরকার। ১৯৬১ সালের মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন (Maternity Benefit Act, 1961) মেনে রাজ্যে নতুন চাইল্ড কেয়ার রুলস বা শিশু সুরক্ষা নিয়ম কার্যকর করা হবে।

এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী - সমস্ত সরকারি অফিস, শিল্প প্রতিষ্ঠান, আইটি পার্ক (IT Parks) বা যে কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা, যেখানে ৫০ জনের বেশি কর্মী কাজ করেন, সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপদ এবং উচ্চমানের ডে-কেয়ার সেন্টার বা ক্রেশ (শিশুদের দেখভাল কেন্দ্র) চালাতে হবে। এর ফলে চাকুরিজীবী মায়েরা তাঁদের সন্তানদের কর্মস্থলেই নিরাপদে রাখতে পারবেন, যা তাঁদের কর্মক্ষমতা এবং মানসিক শান্তি দুই-ই বাড়িয়ে দেবে।

কেরলকে দেশের মধ্যে সবথেকে 'মহিলা-বান্ধব রাজ্য' হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে নতুন সরকার। রাজ্যপাল আরলেকর বিধানসভায় জানান, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে এবার কোমর বাঁধছে প্রশাসন। বিশেষ করে বেসরকারি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বেতনের যে ফারাক থাকে, তা দূর করে 'সমকাজে সমবেতন' নীতি কঠোরভাবে বলবৎ করা হবে।

এছাড়াও, অসংগঠিত ক্ষেত্রে (Unorganised sector) কর্মরত কোটি কোটি শ্রমজীবী মহিলাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ছাতা বাড়াতে চলেছে কেরল। এই ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলারা এবার থেকে পূর্ণাঙ্গ ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) পাবেন। এর পাশাপাশি এই ক্ষেত্রের নারী শ্রমিকদের জন্য আরও কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও ভাতার বন্দোবস্ত করছে সরকার।

মহিলাদের পাশাপাশি রাজ্যের শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এক নজিরবিহীন সামাজিক অভিযানের ডাক দিয়েছে কেরল সরকার। 'দুস্থ ও অনাথ-মুক্ত কেরল' (Destitute and Orphan-Free Kerala Initiative) গড়ার লক্ষ্যে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট বা শিশু ন্যায় বিচার আইনকে হাতিয়ার করছে তারা।

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা হল, ব্যাপক হারে আইনি দত্তক ক্যাম্পেন চালানো হবে। একই সঙ্গে এমন একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে যেখানে প্রশিক্ষিত এবং উপযুক্ত পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত 'ফস্টার ফ্যামিলি' বা পালনকারী পরিবাররা অনাথ শিশুদের দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবেন। এই সুসংগঠিত পরিকাঠামোর মাধ্যমে কেরলকে ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ 'অনাথ-মুক্ত রাজ্য' হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের পাখির চোখ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall