দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের (Mallikarjun Kharge) সভাস্থলে 'শুদ্ধিকরণ' অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। শনিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই ঘটনা কথা তুলে ধরে বিজেপি ও আরএসএসের দলিত বিরোধী মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেন।
একই সঙ্গে এই অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে তপশিলি জাতি ও উপজাতি অনগ্রসর প্রতিরোধ আইনে (SC/ST Act) অবিলম্বে মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গত ৮ অগস্ট হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের একটি বড় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সভা শেষ হওয়ার পর শ্রীরাম সেনার পক্ষ থেকে ময়দানে তথাকথিত 'শুদ্ধিকরণ' পুজো অনুষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ তোলেন উত্তরাখণ্ড রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি গণেশ গোদিয়াল। খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ বলেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, এটি কেবল খাড়গের ওপর আক্রমণ নয়, সারা দেশের দলিত সমাজের ওপর বৈষম্যের প্রতীক।
কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির কথায়, "শুদ্ধিকরণ হল আসলে অস্পৃশ্যতারই অন্য নাম। আমাদের সংবিধানে অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির লোকেরা তা খোলামেলাভাবে চর্চা করছে। যদি মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো একজন বর্ষীয়ান ও প্রথম সারির নেতার সাথে এমন আচরণ করা হতে পারে, তবে গ্রামের চার বছরের এক দলিত শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়।" তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্কুলেও এখনও দলিত শিশুদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করানো, ঝাঁট দেওয়া এবং চা-দোকানে আলাদা প্লাস্টিকের কাপে চা দেওয়ার মতো বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
পুরো ঘটনাটিকে দুটি পৃথক মতাদর্শের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করে রাহুল বলেন, "বর্তমানে দেশে লড়াই চলছে দুটি চিন্তাভাবনার মধ্যে। একদিকে ডঃ আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও সর্দার প্যাটেলের প্রণীত সংবিধান, আর অন্যদিকে বিজেপি ও আরএসএসের বিভাজনকারী মানসিকতা।" তিনি উত্তরাখণ্ড সরকার ও কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি পুলিশ প্রশাসন যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেয়, তবে কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে। একই সঙ্গে উত্তরাখণ্ড বিজেপি রাজ্য সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন খাড়গে নিজে। সেই সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যসভার উচ্চকক্ষের নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছিলেন যে, দল এই ধরনের কোনও কাজকে সমর্থন করে না এবং পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কিন্তু তারপরও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ দিন ফের সরব হলেন রাহুল গান্ধী।

