Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
খালি পেটে রাজনীতি নয়! ৫২-র জ্যোতি-বিধানের 'লুচি'র স্মৃতি ফিরল '২৬-এর কুণাল-তাপসের আড্ডায়

খালি পেটে রাজনীতি নয়! ৫২-র জ্যোতি-বিধানের 'লুচি'র স্মৃতি ফিরল '২৬-এর কুণাল-তাপসের আড্ডায়

THE WALL 1 week ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়টা তখন ১৯৫২ সাল। স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলা। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে শান দিচ্ছেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy) এবং বিরোধী শিবিরের তরুণ তুর্কি জ্যোতি বসু (Jyoti Basu)।

সেদিন কলকাতার চৌরঙ্গী এলাকায় বিধান রায়ের একটি জনসভা ছিল। গাড়ি চড়ে সভায় পৌঁছনোর সময় হঠাৎই গাড়ির কাচ দিয়ে তিনি দেখেন, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন জ্যোতি বসু। কৌতূহলবশত গাড়ি থামিয়ে জ্যোতিবাবুকে ডেকে পাঠান তিনি। জানতে চান, 'কোথায় যাচ্ছ?' উত্তরে সটান জ্যোতি বসু জানান, 'আপনারা ট্রামের ভাড়া বাড়িয়েছেন। আজ তারই প্রতিবাদে একটা মিছিল আছে, সেখানেই যাচ্ছি।'

জ্যোতি বসুর কথা শুনে হেসেই আকুল মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রসিকতা করে তিনি বলে ওঠেন, 'খালি পেটে বিধান রায় আর কংগ্রেসকে হারানো যাবে না। গাড়িতে এসো, খানকয়েক লুচি আছে, দু'জনে মিলে খাই। তারপর তুমি গিয়ে সভায় দাঁড়িয়ে বিধান রায়কে যত ইচ্ছে গালাগালি কোরো!'

ইতিহাসের সাত দশক পুরনো 'লুচি-কূটনীতি'র স্মৃতিই টুকি দিয়ে গেল সোমবার, রাজ্যের বিধানসভার গেটের সামনে। মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং নতুন বিজেপি সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy)। দল ভাঙা আর সই জাল-কাণ্ডের মধ্যে দুই নেতার 'হঠাৎ দেখা' মুহূর্তের মধ্যে তৈরি করে মুচমুচে আলাপ।

সামনাসামনি হতেই প্রথম তিরটি ছোঁড়েন বিজেপি মন্ত্রী তাপস রায়। কুণালকে দেখে মুচকি হেসে তিনি বলেন, 'ধর্মতলায় লোক হয়নি নাকি?' ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন কুণাল ঘোষও। তৎক্ষণাৎ তৃণমূল নেতার পালটা বাউন্সার, 'তোমরা তো মঞ্চ বাঁধতেই দাওনি!'

পুরনো সতীর্থের মুখে এই জবাব শুনে অতীতে সল্টলেকের সেই চেনা লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেন তাপস। বলেন, 'আমাদের তো পারমিশন নিতে বার বার কোর্টে পাঠিয়েছিলে তোমরা।'

টানটান কথা-পাল্টা কথার মধ্যেই তাপস রায়ের কাঁধে হাত দিয়ে কুণাল বলে ওঠেন, 'তাপসদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী, অনেকেই জানেন না। উনি আমার কলেজের সিনিয়র ছিলেন।' কুণালের মুখে পুরনো দিনের কথা শুনে হেসে ফেলেন 'সিনিয়র'।

আড্ডা যখন জমে উঠেছে, তখন বাঙালির শেষপাতে একটু খাওয়া-দাওয়ার গল্প থাকবে না, তা কি হয়! বিদায় নেওয়ার আগে তাপসবাবুর উদ্দেশে কুণাল হাসিমুখে আবদার জুড়ে দেন, 'একদিন খাবার পাওনা রইল। বৌদিকে বোলো, লুচি আর পটল ভাজা পাওনা রইল।' কুণালের আবদারে সায় দিয়ে দু'জনে হাসিমুখে হ্যান্ডশেক করেন এবং যে যাঁর গন্তব্যে রওনা দেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall