দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার কামারহাটির (Kamarhati) তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) একটি বাড়িতে নজিরবিহীন তল্লাশি অভিযান চালাল পুলিশ। রবিবার দুপুরে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) দ্যুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এক বিশাল পুলিশ বাহিনী এই অভিযানে অংশ নেয়।
তবে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, বাড়িটি তখন সম্পূর্ণ তালাবন্ধ ছিল এবং বিধায়ক নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয় তদন্তকারীদের। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভেতরে তল্লাশি চালানোর পর বাড়িটি পুনরায় লক করে পুলিশ কর্মীরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটির এই বিতর্কিত বাড়িটির নাম 'উদয় ভিলা'। এই ভবনের ভেতরেই তৃণমূল বিধায়কের একটি দলীয় কার্যালয় বা অফিস রয়েছে। মূলত একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
জমির মালিকানা: প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যে জমির ওপর এই 'উদয় ভিলা' গড়ে তোলা হয়েছে, সেটি আসলে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার অধীনস্থ জায়গা।
তদন্তের অভিমুখ: কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়া কীভাবে একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে এই ভবনটি নির্মাণ করা হল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখতেই এই আকস্মিক পুলিশি হানা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বেলা ১টা নাগাদ হঠাৎ করেই বিশাল পুলিশ বাহিনী 'উদয় ভিলা' চত্বর ঘিরে ফেলে। প্রতিবেশীদের দাবি, এই বাড়িতে মাঝেমধ্যেই এসে সময় কাটাতেন বা থাকতেন মদন মিত্র। তবে এই বিতর্কিত সম্পত্তির প্রকৃত আইনি মালিক কামারহাটির বিধায়ক নিজে কি না, তা এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখছে পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক এই মুহূর্তে তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
আজ, রবিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে ঘাসফুল শিবিরের নবগঠিত পরিষদীয় দলের একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হওয়া ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ঠিক কত জন রবিবারের এই বৈঠকে সশরীরে যোগ দিতে কালীঘাটে পৌঁছান, সে দিকেই নজর সকলের। মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠ শিবিরের দাবি, দলনেত্রীর ডাকা এই বিশেষ ও জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকার উদ্দেশ্যেই তিনি কামারহাটি ছেড়ে দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে চলে আসেন।

