Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির অস্বাভাবিক মৃত্যু, রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝির অস্বাভাবিক মৃত্যু, রামপুরহাটের বাড়ি থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

THE WALL 4 days ago

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মামাতো ভাইয়ের মেয়ে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের রামপুরহাটে। মঙ্গলবার দুপুরে কুসুম্বা গ্রামে তাঁদের পৈতৃক বাড়ির দোতলার ঘর থেকে এই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

পরিবারের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই তরুণী। তবে এই মর্মান্তিক পরিণতির নেপথ্যে একাধিক পারিবারিক ও পেশাগত চাপ কাজ করেছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে।

কুসুম্বা গ্রামেই মমতার মামারবাড়ি। খাস রাজনৈতিক পরিবার হিসেবে পরিচিত এই বংশের শিকড় রয়েছে রামপুরহাটের মাটিতেই। বৃষ্টির বাবা নীহার মুখোপাধ্যায় একসময় রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সূত্রে স্থানীয় এলাকায় ভালই পরিচিতি ছিল এই পরিবারের। স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রুপ-সি পদে চাকরি করতেন বৃষ্টি। কিন্তু রাজ্যজুড়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দুর্নীতি সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলার কোপে পড়ে তাঁর সেই চাকরিটি চলে যায়। তদন্তে প্রকাশ পায়, তাঁর গ্রুপ-সি পরীক্ষার ওএমআর শিট বা উত্তরপত্রে প্রায় নব্বই শতাংশই গরমিল ছিল। আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই চাকরি হারানোর ধাক্কা তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেই মনে করছেন পরিচিতরা।

পেশাগত বিপর্যয় ছাড়াও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর মেঘ ঘনিয়েছিল। সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আইনি মামলা চলছিল। আদালতের চক্কর এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে মানসিকভাবে আরও কোণঠাসা করে দিয়েছিল। পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে মানসিক অবসাদের জেরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বেশিরভাগ সময় নিজের ঘরেই নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন তিনি। পরিজনদের সঙ্গেও আগের মতো মেলামেশা করতেন না। মঙ্গলবার সকালেও তাঁকে নিজেদের ঘরে একা থাকতে দেখা গিয়েছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎই তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে হতবাক হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে রামপুরহাট থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।

তদন্তকারী অফিসাররা দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও এই পরিবারে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় গোটা কুসুম্বা গ্রামজুড়ে শোক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। একের পর এক বিপর্যয়, চাকরি হারানোর বেদনা এবং ব্যক্তিগত অশান্তি কি তবে সহ্য করতে পারেননি তরুণী? সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: The Wall