দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক অশান্তির ছায়া। তবে এবার খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী (Suvendu Adhikari assistant) চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Chandranath Rath murder)। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় কাজ সেরে কলকাতা ফেরার পথে তিন-চার জন দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে অতর্কিতে হামলা চালায়।
বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হয়েছেন, তাঁর শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। নিজের একনিষ্ঠ সঙ্গীর দেহ শনাক্ত করার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নির্বাচনের জয়ের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে ফের রাজ্যে রাজনৈতিক হত্যার মাথা চাড়া দেওয়া নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সরব হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছেন। তিনি লেখেন, 'তৃণমূল প্রমাণ দিল তারা তৃণমূল। ভাই চন্দ্রনাথ রথ শুধু শুভেন্দুদার আপন ছিল না, আমাদের সবার আপন ভাই ছিল। মনে রেখো তৃণমূল।' রুদ্রনীলের এই সরাসরি হুঁশিয়ারি এবং শাসক দলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত বিধায়করা এখন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ডাক দিচ্ছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডে তাদের যুক্ত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। শাসক দলের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ বিবাদ বা অন্য কোনো সামাজিক কারণ থাকতে পারে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্তের ওপর জোর দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনার ভয়াবহতা ও রুদ্রনীল ঘোষের কড়া বার্তার পর এই ইস্যু নিয়ে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

