দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনিপুরে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারালেন হুগলির ত্রিবেণীর এক ট্রাকচালক। মৃতের নাম নীতিশ দাস (৬৩)। তিনি ত্রিবেণী ২ নম্বর বাসুদেবপুর উমাপল্লির বাসিন্দা। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মনিপুর ও অসমে পণ্যবাহী লরি চালানোর কাজ করতেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে।
তবে শোকের থেকেও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা।
মনিপুরের ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে নিরাপত্তাবাহিনীর পাহারায় একাধিক লরি উখরুল জেলার দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় কাসোম এলাকা পার হওয়ার সময় পাহাড় থেকে সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। লরির বহরের একেবারে সামনে ছিলেন নীতিশ। গুলিতে তাঁর শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
নীতিশের ভাই অংশু দাস জানান, লরিতে তাঁর মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। ঘটনার পর অন্য ট্রাকচালকেরা ফোন করে মৃত্যুসংবাদ দেন। খবর পেয়ে পরিবার কার্যত ভেঙে পড়ে।
নীতিশের পরিবারে রয়েছেন এক অসুস্থ ছেলে ও একটি মেয়ে। ছেলে নগেন দাস দীর্ঘদিন ধরে অগ্ন্যাশয়ের জটিল রোগে ভুগছে।পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন নীতিশ। লরি চালিয়ে যা আয় করতেন, তার বড় অংশই পাঠিয়ে দিতেন সংসার চালানো এবং ছেলের চিকিৎসার খরচের জন্য।
পরিবারের দুর্দশা আরও বেড়েছে কারণ নীতিশের স্ত্রী গীতা রানি দাস ২০২৪ সালে মারা গিয়েছেন। তারপর থেকে ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছিলেন তিনি। প্রায় ছয় মাস আগে বাড়িতে এসেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের বলেছিলেন আবার ফিরবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হল না। পরিজনদের দাবি, নীতিশ প্রতিদিনই ফোন করে ছেলে, মেয়ে ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। মৃত্যুর আগের দিন সকালেও মেয়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল।
বর্তমানে নীতিশের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভাই। তিনি সবরকম সহযোগিতার চেষ্টা করছেন। তবে পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, সংসার চলবে কীভাবে? অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা ও মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে তাঁরা। সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদনও জানিয়েছে পরিবারটি।
আপাতত নীতিশের মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের দু'জন সদস্য মনিপুরে পৌঁছেছেন। কবে দেহ ত্রিবেণীতে আনা হবে, তা জানা যায়নি এখনও।

